নিয়োগবঞ্চিত কয়েকজন প্রার্থীর অভিযোগ, তাদের বেশির ভাগই গোয়েন্দা সংস্থার যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশনের কারণে বাদ পড়েছেন। তবে কী কারণে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাননি বলে দাবি করেছেন। বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সব ধাপ সফলভাবে শেষ করার পর নিয়োগের শেষ পর্যায়ে এসে বাদ পড়ায় তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
৪৯তম বিসিএসে ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সোহেল রানা। পিএসসির সুপারিশের পর চূড়ান্ত গেজেটে নিজের নাম না দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, তাকে গেজেট থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
ইংরেজি বিষয়ে মেধাক্রমে ১৪তম হয়েছিলেন বুশরা জাহান। তার ভাষ্য, গেজেটে তার আগের ১৩তম এবং পরের ১৫তম মেধাক্রমের প্রার্থীর নাম থাকলেও তার নাম নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না থাকার পরও কেন তাকে নিয়োগবঞ্চিত করা হলো।
আরেক প্রার্থী রেদওয়ান আহমেদ তাহমিদও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও পরিশ্রমের পর ৪৯তম বিসিএসে সুপারিশ পাওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন তিনি।
বিসিএসে সুপারিশ পাওয়ার পর চূড়ান্ত নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রচলিত ব্যবস্থা নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে। জনপ্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে গঠিত সংস্কার কমিশন এ বিষয়ে পরিবর্তনের সুপারিশ করেছিল।
সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ৯.২ অনুচ্ছেদে বিসিএসে উত্তীর্ণ প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা আছে কি না, মূলত সেই তথ্য পুলিশের কাছ থেকে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছ থেকেও তথ্য নেওয়ার কথা বলা হয়।
এ ছাড়া পদোন্নতির ক্ষেত্রে পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার কাছে কর্মকর্তার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার প্রচলন বাতিলের সুপারিশও করেছিল কমিশন। তাদের যুক্তি ছিল, এ ধরনের প্রক্রিয়া প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিদ্যমান বিসিএস নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১ অনুযায়ী, প্রার্থীর স্বাস্থ্যগত অযোগ্যতা বা অপরাধ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে কাউকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আপত্তি রয়েছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের তথ্য না থাকলে শুধু পুলিশ বা গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে নিয়োগবঞ্চিত করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।