মানুষের কথা, আচরণ ও কাজের মাধ্যমে তার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়। এসবের মূল উৎস হলো অন্তর। অন্তর পবিত্র হলে মানুষের কথা ও কাজে তার প্রভাব পড়ে। তাই অন্তরের শুদ্ধতা, তাকওয়া ও চারিত্রিক পবিত্রতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, মানুষের মধ্যে কে সবচেয়ে ভালো? তিনি বললেন, প্রত্যেক বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী সত্যবাদী ব্যক্তি। সাহাবিরা বললেন, সত্যবাদীকে আমরা চিনি। কিন্তু বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী কে? তিনি বললেন, তিনি এমন ব্যক্তি, যিনি তাকওয়াবান ও পবিত্র। তার অন্তরে কোনো পাপ, সীমালঙ্ঘন, বিদ্বেষ কিংবা হিংসা নেই। (সুনানে ইবনে মাজাহ ৪২১৬)
হাদিসে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড তুলে ধরা হয়েছে। তা হলো, সত্যবাদিতা ও অন্তরের পবিত্রতা। একজন মানুষ সত্য কথা বলবেন, আল্লাহকে ভয় করবেন এবং নিজের অন্তরকে যাবতীয় পাপ ও হিংসা-বিদ্বেষ থেকে মুক্ত রাখবেন। অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবেন না এবং কারও অকল্যাণ কামনা করবেন না।
বাস্তব জীবনে মানুষের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও অহংকার নানা অশান্তির জন্ম দেয়। এসব নেতিবাচক গুণ মানুষের সম্পর্ক নষ্ট করে এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করে। পক্ষান্তরে, পবিত্র অন্তরের মানুষ অন্যের প্রতি সদয় হন, মানুষের কল্যাণ কামনা করেন এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলেন।
তাই প্রকৃত ভালো মানুষ হওয়ার জন্য শুধু বাহ্যিক আমল যথেষ্ট নয়, অন্তরের পরিশুদ্ধিও জরুরি। নিয়মিত আত্মসমালোচনা, তওবা, আল্লাহর জিকির এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীলতা অন্তরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সহায়তা করে।
মুমিনের উচিত নিজের অন্তরকে হিংসা, বিদ্বেষ ও অহংকার থেকে মুক্ত রাখা। সত্যবাদিতা ও তাকওয়ার মাধ্যমে এমন জীবন গড়ে তোলা, যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি মানুষের জন্য তিনি কল্যাণকর হয়ে উঠতে পারেন।
লেখক : ইসলামি গবেষক