‘ব্রেক্সিটে ভালোর চেয়ে মন্দ বেশি’

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৯ এএম

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ার অংশ হিসেবে জোটটিতে আবার যোগদানের সুবিধাসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প বিবেচনা করার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। তিনি বলেন, ব্রেক্সিটের মাধ্যমে ইইউ থেকে বের হয়ে আসার সিদ্ধান্তে ‘ভালোর চেয়ে মন্দ হয়েছে বেশি’। গতকাল বুধবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন লেবার পার্টির এই নেতা। বার্নহ্যাম জানান, ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।

সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেন, ব্রিটেনের ভবিষ্যতের জন্য কোন পথটি সবচেয়ে উপযুক্ত তা নির্ধারণ করতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক মডেল গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার। সম্ভাব্য পথগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমান অবস্থাতেই বহাল থাকতে পারি, যদি মানুষ মনে করে এটাই সঠিক স্থান। কিংবা আমরা সাবেক কনজারভেটিভ অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবোর্নের প্রস্তাবিত কাস্টমস ইউনিয়নের ভাবনাটি বিবেচনা করতে পারি। আবার লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের মতো একক বাজারে (সিঙ্গেল মার্কেট) ফেরার কথা ভাবতে পারি, অথবা পূর্ণাঙ্গভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরে যাওয়ার পথও বেছে নিতে পারি।’ প্রতিটি বিকল্পের সুবিধা, অসুবিধা এবং বাস্তবে প্রয়োগের সম্ভাব্যতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে জানান তিনি।

এর আগে গত মঙ্গলবার লিভারপুলে লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি ইইউর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলেও অঙ্গীকার করেন। বছরের শেষ দিকে ইইউর সম্মেলনে তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের আবারও ইইউতে ফেরার আলোচনা আগামী নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। কনজারভেটিভ পার্টির অভিযোগ, বার্নহাম ব্রেক্সিটের বিতর্ক উসকে দিয়ে আবারও ‘পুরনো ক্ষত জাগিয়ে তুলছেন’।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাজ্য। ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ থেকে বের হয়ে যায় দেশটি। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের সবচেয়ে বড় জোটে যুক্তরাজ্যের চার দশকেরও বেশি সময়ের সদস্যপদের অবসান ঘটে। ব্রেক্সিট-পরবর্তী বছরগুলোতে দেশটির রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। গত জুলাইয়ে কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম বহু আগে থেকেই নিজের জীবদ্দশায় ব্রিটেনকে পুনরায় ইইউ-তে দেখতে চাওয়ার আকাক্সক্ষা প্রকাশ করে আসছেন। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে যাওয়া ‘যুক্তরাজ্য-ইইউ সম্মেলনে’।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত