ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৯ এএম

ফ্রান্সে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন আর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষক ও কর্মী সংকট, অতিরিক্ত ক্লাস, শ্রেণিকক্ষে চাপ এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ গত মঙ্গলবার দেশজুড়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে। একই দিনে সরকারি খাতের কর্মীদের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি মিলে যাওয়ায় সরকারের ওপর রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার দেশটির চার শতাধিক স্কুলে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০টি স্কুলে পুরোপুরি অবরোধ এবং ৪৪টিতে অবরোধের চেষ্টা চালানো হয়। ফরাসি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, শিক্ষার্থী ও কর্মী মিলিয়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং অন্তত ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর প্যারিসের উপকণ্ঠের একটি বিদ্যালয় থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। সেখানে শিক্ষক পদ পূরণ না হওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর তা রাজধানী প্যারিস ছাপিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। গত সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, প্রায় ১৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরোধ বা অবরোধের চেষ্টার আওতায় আসে। ওইদিন ১৬৪ জনকে আটক করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীদের মধ্যেও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কয়েকটি বিদ্যালয়ের সামনে অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে ৩৩০টির বেশি বিদ্যালয়ে কোনো না কোনোভাবে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির প্রভাব পড়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে সরকারের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির দূরত্বও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লোকর্নু বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে সমাধান করা প্রয়োজন। তবে অবরোধ, সহিংসতা ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

একই দিনে সরকারি খাতের কর্মীরাও সরকারের ২০২৭ সালের বাজেট পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ধর্মঘট ও বিক্ষোভে অংশ নেন। ট্রেড ইউনিয়নগুলো জানিয়েছে, মঙ্গলবার দেশব্যাপী একদিনের এই ধর্মঘটে প্রায় ৩ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানী প্যারিসে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০ হাজার। পাশাপাশি কর্ম পরিবেশের উন্নয়নের দাবিও জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ইউনিয়নগুলোর তথ্যমতে, ২ বিলিয়ন ইউরো বাঁচাতে ২০২৭ সালে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার প্রস্তাব করেছে সরকার। এটি কার্যকর হলে তা হবে টানা চতুর্থ বছর এবং প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর মেয়াদে অষ্টম দফায় বেতন স্থগিত রাখার ঘটনা। ইউনিয়নগুলোর দাবি, এই স্থবিরতার কারণে কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা দুই অঙ্কের হারে হ্রাস পেয়েছে। তাই তারা বেতন ৬ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবারের সাধারণ সম্পাদক সোফি বিনেট এই বিক্ষোভকে ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’ বলে উল্লেখ করেছেন। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘এই ক্ষোভ সহজে থামবে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত