ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ে মুখোমুখি লুলা-বোলসোনারো

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর)। আগামী রবিবার ভোট গ্রহণের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে সরগরম দেশটির রাজনীতি। এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে, লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশটি পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার পথে হাঁটবে, নাকি নিজস্ব রাজনৈতিক গতিপথ ধরে রাখবে। খবর রয়টার্সের। 

প্রথম দফার নির্বাচনে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জনমত জরিপগুলো বলছে, বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা প্রথম দফায় সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারেন। তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরাসরি জয় পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে জরিপগুলো।

এ ক্ষেত্রে আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ভোট হতে পারে। সেখানে লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারোর, যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর ছেলে। সাবেক এই কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয় উল্টে দিতে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে গত বছর দোষী সাব্যস্ত হন। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে রক্ষণশীল মহলে ক্ষোভ দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিচারপ্রক্রিয়াটিকে ‘উইচ হান্ট’ বা রাজনৈতিক হয়রানি বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময়জুড়ে লুলা নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কার কথা বলেছেন। এর মধ্যে ওয়াশিংটনের আরোপ করা নতুন শুল্কও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের পণ্যের ওপর একাধিক শুল্ক আরোপ করায় লুলার প্রেসিডেন্ট মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে বোলসোনারো পরিবার ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্রিয় হয়েছে এবং হোয়াইট হাউসে সফরও করেছে। ফলে ট্রাম্পের সঙ্গে লুলার ওঠানামাপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে বোলসোনারো পরিবারের ঘনিষ্ঠতার বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান থিংক পলিসির সহপ্রতিষ্ঠাতা লিওনার্দো বারেত্তো বলেন, চীনের সঙ্গে, বিশেষ করে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে, ভালো সম্পর্ক থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে স্বাধীনতা বজায় রাখাকে লুলা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

তার মতে, বোলসোনারো পরিবার ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ককে নির্বাচনী সমীকরণে নিজেদের জন্য এক ধরনের ‘বীমা’ হিসেবে ব্যবহার করছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র পাশে দাঁড়াবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই তারা এই সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছে। চলতি নির্বাচনী প্রচারের শুরুতে লুলা যে স্বস্তিদায়ক ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন, তা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। বেশির ভাগ জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার ভোটে ফ্লাভিও বোলসোনারো এখন লুলার সঙ্গে প্রায় সমানে সমান অবস্থানে রয়েছেন। অনেক জরিপে দুই প্রার্থীর ব্যবধান জরিপের ত্রুটিসীমার মধ্যেই রয়েছে।

লুলার সরকারের সময়ে আয়বৈষম্য ও বেকারত্ব কমার মতো কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য ভোটারদের আস্থা অর্জনে তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবারের ওপর বাড়তে থাকা ঋণের চাপ এবং অপরাধী চক্রগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাব ভোটারদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। 

মঙ্গলবার প্রকাশিত অ্যাটলাসের এক জরিপে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার ভোটে লুলা ও ফ্লাভিও বোলসোনারো কার্যত সমান অবস্থানে রয়েছেন। জরিপে লুলার পক্ষে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার, আর ফ্লাভিওর পক্ষে ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে এসব জনমত জরিপ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নয়, ভোটারদের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত এবং প্রথম দফার ভোটের ফলের ওপর দ্বিতীয় দফার সমীকরণ নির্ভর করবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত