খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বাদ, দাম ও সহজলভ্যতাকেই অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় ধরা হয়। তবে মানুষের জীবনযাত্রার ধরণ বদলেছে। পরিবর্তন এসেছে খাবার নিয়ে মানুষের ভাবনাতেও। এখন কেবল খাবার খাওয়া নয়; কী খাচ্ছি, খাবারটি কোথা থেকে আসছে, কীভাবে উৎপাদিত হচ্ছে ও দৈনন্দিন সুস্থ জীবনযাপনের সাথে এটি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, এ প্রশ্নও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে, স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে অর্গানিক খাবারের প্রতি বেশি আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
বর্তমান সময়ের খাদ্যতালিকায় প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ফাস্টফুডের উপস্থিতি বেড়েছে। সেই সাথে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে কমেছে শারীরিক পরিশ্রমও। ফলে এসব খাদ্য সাময়িকভাবে মুখরোচক ও ক্ষুধা নিবারণ করলেও দীর্ঘমেয়াদি মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। আর এসব বিবেচনায় রেখেই খাবারের উৎস ও গুণমান নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের আগ্রহ বাড়ছে অর্গানিক খাবারের প্রতি। তৈরি হচ্ছে নিরাপদ ও সচেতন খাদ্যাভ্যাস তৈরির। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে প্রবীণ, সকলের মাঝেই স্বাস্থ্য ও খাবারের মান নিয়ে সচেতনতা ও অর্গানিক খাবার নিয়ে জানাশোনা ও আগ্রহ বেড়েছে।
তবে, দেখা যায় সাধারণ পণ্যের তুলনায় অর্গানিক পণ্যের দাম অনেকক্ষেত্রে কিছুটা বেশি থাকে। অবশ্য এর পেছনে যুক্তিযুক্ত কারণও রয়েছে। বলা চলে, অর্গানিক পণ্যের উৎপাদন, সংগ্রহ, মান নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থায় স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়।
প্রাকৃতিক উপায় অথবা গ্রিনহাউস পদ্ধতিতে উৎপাদিত পণ্য যেমন, ঘানিভাঙা তেল, দেশি মুরগি, ডিম, দুধ বা লাল চাল, লাল আটা উৎপাদনে স্বাভাবিকভাবেই খরচ কিছুটা বেশি হয়। এছাড়াও, স্থানীয় উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা, সংরক্ষণব্যবস্থা, পরিবহন ও পণ্যের নিয়মিত প্রাপ্যতা, সবকিছু মিলিয়ে অর্গানিক খাবারের বাজার সম্প্রসারণে বেশ কিছু প্রতিকূলতা রয়েছে। তবে, পরিকল্পনা মোতাবেক প্রশাসনের সহায়তায় এই প্রতিকূলতা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব।
একইসাথে, সারাবছর যোগান ও সরবরাহ-ব্যবস্থা ঠিক না থাকায় বাজারে অর্গানিক পণ্যের নামে নকল পণ্যের প্রসারও বেড়েছে। তবে সেসব পণ্য চিহ্নিত করার উপায়ও রয়েছে। অর্গানিক পণ্য চেনার প্রথম মানদণ্ড হলো ইউএসডিএ, ইইউ বা চীনের মতো স্বীকৃত অর্গানিক সনদ থাকা।
এছাড়া, বীজ থেকে শুরু করে সরবরাহ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার তথ্য বিক্রেতা জানাতে পারছেন কিনা তা দেখা। অর্থাৎ উৎপাদনপদ্ধতি, সংশ্লিষ্ট সনদ, উপাদান, উৎপাদক ও সরবরাহকারীর তথ্য যাচাই করে নেওয়ার মাধ্যমে ক্রেতা পণ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।
তবে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মানে কেবল একটি নির্দিষ্ট ধরনের খাবার নিয়মিত খাওয়া নয়। এর সাথে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা, ঘুম ও মানসিক সুস্থতা সহ সবকিছুর সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। মাকা, চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড, স্পিরুলিনা, কিনোয়া, হলুদ; এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা নিশ্চিতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশ হেলদি লাইফস্টাইল ও অর্গানিক ফুড নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জেকে লাইফস্টাইল। অর্গানিক খাবারের বিষয়ে জেকে লাইফস্টাইলের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, 'সুস্থ জীবনযাপনকে আমরা কেবল একটি নির্দিষ্ট খাবার বা কোনো একটি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখি না। স্বাস্থ্যকর খাবার, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, উপযুক্ত ফাস্টিং অভ্যাস ও মানসিক প্রশান্তি; সবকিছুর সমন্বয়েই একটি টেকসই স্বাস্থ্যকর জীবনধারা তৈরি হয়। অর্গানিক খাবার এই জীবনধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আমরা জেকে লাইফস্টাইলের মাধ্যমে তুলে ধরছি। আমরা আমাদের পণ্য ও সেবার মাধ্যমে সমাজে সুস্থ জীবনযাপনের এক নতুন অধ্যায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি, যার লক্ষ্য সবাই যেন রোগমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর জীবন অতিবাহিত করতে পারে।'
পরিবর্তিত জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাসের মাঝে তাই সুস্থতা বজায় রাখার জন্য অর্গানিক খাবার সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই নিরাপদ উৎস থেকে মানসম্মত অর্গানিক খাবার সংগ্রহ করতে হবে। কারণ চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে অর্গানিক খাবারের নামে মানহীন পণ্যও বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।