কোচ জর্জ জেসুস শুরুর একাদশে রাখবেন না এমন বার্তা পাওয়ার পর বুধবার হুট করেই পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। উয়েফা নেশনস লিগে ডেনমার্কের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগের দিন বুধবার কোপেনহেগেনে এই নাটকীয় ঘটনা ঘটে। ক্যাম্প ত্যাগের পর সামাজিক মাধ্যমে রোনালদো যা যা জানিয়েছেন তাতে ইঙ্গিত আছে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের। তিনি বলেছেন, যথাসময়ে পর্তুগালের মানুষের কাছে এর পেছনের আসল সত্যি তুলে ধরবেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৪৬ গোল নিয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো, যিনি বর্তমানে পেশাদার ক্যারিয়ারের ১,০০০ তম গোলের মাইলফলক ছুঁতে মাত্র ২২ গোল দূরে দাঁড়িয়ে (বর্তমান গোল ৯৭৮টি)। কিন্তু গত রবিবার নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে কাটাতে হয় তাকে। ওই ম্যাচের পর থেকে সতীর্থদের সঙ্গে কোনো ধরনের অনুশীলনে অংশ নেননি তিনি। এর পর থেকেই কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে তার মারাত্মক বিরোধ ও দ্বিমতের গুঞ্জন বাতাসে ভেসে বেড়ায়। বুধবার ডেনমার্ক ম্যাচপূর্ব সম্মেলনে পর্তুগালের নতুন কোচ জর্জ জেসুস স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, আক্রমণভাগে রামোসই তার প্রথম পছন্দ। জেসুস বলেন, ‘দল নির্বাচনের পূর্ণ সিদ্ধান্ত কোচের। দল কীভাবে খেলবে তা আমিই ঠিক করব এবং নিয়ম সবার জন্য সমান। খেলায় প্রয়োজন হলে তিনি নামবেন, না হলে নামবেন না।’
নরওয়ে ম্যাচে রোনালদোকে দীর্ঘ সময় ডাগআউটে ওয়ার্ম-আপ করিয়েও মাঠে না নামানোকে ভুল স্বীকার করলেও কোনো ক্ষমা চাননি জেসুস, ‘বিনা খেলায় কাউকে অতক্ষণ ওয়ার্ম-আপ করালে যেকোনো খেলোয়াড়েরই মন খারাপ হবে। তবে আমি কোচ হিসেবে পরিস্থিতি অনুযায়ী যা ভালো মনে করব তা-ই প্রতিশ্রুত দেব, কোনো খেলোয়াড় আমার সিদ্ধান্ত তৈরি করে দেবে না।’
কোচের এই স্পষ্ট ও কড়া বার্তার পরপরই এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো প্রোয়েন্সার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত জরুরি বৈঠক শেষে কোপেনহেগেনে দলের হোটেল ছেড়ে মাদ্রিদের উদ্দেশ্যে রওনা হন রোনালদো। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে তিনি এক পোস্টে লেখেন, ‘জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলন এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পর আমি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যে কারণ আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে, পর্তুগালের সমস্ত মানুষের কাছে আমি যথাসময়ে সত্যিটা বলব। এখন সতীর্থদের জন্য কেবল শুভকামনা।’ পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে রোনালদোর ক্যাম্প ত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে কারণ দর্শানো ছাড়াই ফেডারেশন জানিয়েছে, স্কোয়াডে থাকা অবশিষ্ট ২৪ জন ফুটবলারকে নিয়েই ডেনমার্ক ও নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের পরবর্তী দুই ম্যাচের প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে।
নেশনস লিগের ‘এ৪’ গ্রুপে প্রথম দুই ম্যাচেই জিতেছিল পর্তুগাল। ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ জয়ের ম্যাচে খেলেছিলেন রোনালদো, তবে ৬৭ মিনিটে তাকেও তুলে নেন কোচ। আর নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে কোচ তাকে নামানইনি। ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকার এমন নাটকীয় প্রস্থান কেবল এই আন্তর্জাতিক এই বিরতির জন্যই সীমাবদ্ধ নাকি পর্তুগালের লাল-সবুজ জার্সিতে তার দুই দশকের রাজত্বেরই অনাকাক্সিক্ষত সমাপ্তি টেনে দিল, তা নিয়ে এখন তোলপাড় বিশ্ব ফুটবল অঙ্গন।