জাবিতে ফাটল ধরা ভবনে পাঠদান, যা বলছেন শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

রবিবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১২ টায় দেওয়া স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীনে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, মার্কেটিং, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি ও বিভিন্ন পেশাগত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও একাডেমিক কার্যক্রম বাড়লেও অনুষদের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সেই তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, অনুষনের বর্তমান ভবনের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান ফাটল রয়েছে। ভবনটিতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কক্ষ, কমনরুম ও লাইব্রেরির সংকটও রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে তাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবনটির বর্তমান অবস্থা দ্রুত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত একাডেমিক ভবন নির্মাণ জরুরি।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে ক্লাসের স্থান পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।এ অবস্থায় ২০২৬ সালের মধ্যেই মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নির্ধারিত জমিতে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানান তারা। স্মারকলিপিতে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি পেয়েছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলব। পাশাপাশি প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখব, প্রস্তাবিত ভবনটি অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) আওতাভুক্ত হয়েছে কি না। যদি এ প্রকল্পের আওতায় না থাকে, তাহলে ভবন নির্মাণের জন্য ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত