'টি২০ বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত বিষয়ে আর কোনো ব্যবস্থা নয়,'- ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার পেছনে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ইচ্ছার প্রভাব ছিল এবং জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে তা করা হয়েছিল বলে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে উঠে এলেও, সরকার এ বিষয়ে আর কোনো আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে না।

রবিবার সচিবালয়ে ক্রীড়া কার্ড উদ্যোগের আওতায় অ্যাথলেটদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত এক সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, "শুধু শাস্তি দিয়ে সব সমস্যার সমাধান করা যায় না। তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলেছে যে, একজন ব্যক্তি বা তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি। দেশ আমাদের সবার। ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি যাতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়ার সুযোগ না পায়, সেই বার্তা আমরা ইতিমধ্যেই দিয়ে দিয়েছি।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা আসলে এ বিষয়টি নিয়ে আর বেশি দূর এগোতে বা নতুন কোনো পদক্ষেপ নিতে চাই যা ঘটেছে, তা ঘটে গেছে এবং আমরা তা ফিরিয়ে আনতে পারব না। তবে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা সবাই সতর্ক থাকবো।"

গত মার্চে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক গঠিত এই তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ড. এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ। কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর এবং বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। গত ১৫ সেপ্টেম্বর এই তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং সরাসরি তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সেসময়ের অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করে। প্রতিবেদন প্রকাশকালে দস্তগীর বলেন, "আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং সেসময়ের সরকার এর জন্য দায়ী ছিল।" তিনি আরও জানান যে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে বিসিবিকে (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল এবং বিসিবি তাতে কোনো আপত্তি জানায়নি। এ বিষয়ে কমিটির মতামত ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। দস্তগীর বলেন, "বাংলাদেশের নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপে যাওয়া উচিত ছিল।"

টি২০ দলের অধিনায়ক লিটন দাস, টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালসহ মোট ১২ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা ২২ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অনুপস্থিতির পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা, ভেন্যু পরিবর্তন করতে আইসিসির অস্বীকৃতি এবং সরকারের হস্তক্ষেপ।

প্রধান দায়ী ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে এই তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কোনো সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়নি।

ধর্মীয় ও উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর চাপের মুখে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমান বাদ পড়ার পর উদ্ভূত নিরাপত্তা আশঙ্কার কথা বলে বাংলাদেশ দল ভারতে ভ্রমণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো স্থানান্তরের অনুরোধ আইসিসি খারিজ করে দেয়, যার ফলে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড অংশগ্রহণ করে।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত