ভাঙনের মুখে আমতলীর শহর রক্ষা বাঁধ

দেড় যুগেও সংস্কার হয়নি সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ, সামান্য জোয়ারেই পৌর শহরে ঢুকছে পানি

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দেড় যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্কার হয়নি বরগুনার আমতলী পৌর শহর রক্ষা বেড়িবাঁধ। দীর্ঘদিনের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাঁধটির বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য জোয়ারের পানি বাড়লেই পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ছে। এতে বাঁধসংলগ্ন বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো প্রয়োজনীয়ভাবে সংস্কার করা হয়নি। এরপর একের পর এক ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানলেও বাঁধটির স্থায়ী সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁদের।

বিশেষ করে আমতলী ফেরিঘাট থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাশ্মশান ঘাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবছর জোয়ার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ এলাকার বাঁধ ও ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও কোথাও বাঁধের ঢাল থেকে ব্লক সরে গিয়ে নদীর দিকে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে বাঁধসংলগ্ন বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর থেকে রেশমি, আইলা, মহাসেন, কোমেন, রোয়ানু, মোরা, ফণী, বুলবুল, আম্পান, ইয়াস, জাওয়াদ, সিত্রাং, মোখা, হামুন ও রেমালসহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব দুর্যোগের সময় আমতলী শহর রক্ষা বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় বাঁধের বিভিন্ন অংশের অবস্থা দিন দিন নাজুক হয়ে পড়ছে

আমতলী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধসংলগ্ন বাসিন্দা শ্যামল চন্দ্র দে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে বসবাস করছেন। বাঁধের ব্লকগুলো সংস্কার করে দেওয়া হলে তাঁরা অনেকটা নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন। তা না হলে সামান্য জলোচ্ছ্বাস হলেই ঘরের আঙিনায় পানি ঢুকে পড়ে।

স্থানীয় করাতকল ব্যবসায়ী আমির হোসেন তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁর করাতকলটি বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আগে করাতকলের সামনে আরও ১০ থেকে ১৫ ফুট জায়গা ছিল। এরপর ছিল ব্লকের ঢাল। কিন্তু বন্যা ও জোয়ারের পানিতে বারবার ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন সেই জায়গাটুকুও নেই। কখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, সেই আশঙ্কায় প্রতিনিয়ত থাকতে হয় বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে বাঁধটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. আবদুল হান্নান প্রধান বলেন, বিষয়টি তিনি অধস্তন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। তাঁরা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তদারকি করবেন। বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রমাণিত হলে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতা ও একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় পৌর শহরের জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আরও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত