জন্মগত হাত-পায়ের ত্রুটি সমস্যায় প্লাস্টিক সার্জারি

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২ এএম

শিশু জন্মালে পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু কখনো সেই আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয় উদ্বেগ। যদি শিশুটির হাত-পা স্বাভাবিক না থাকে। কিংবা কোনো আঙুল অতিরিক্ত, দুটি আঙুল জোড়া লেগে থাকে। হাত-পায়ের কোনো অংশ বাঁকা বা অসম্পূর্ণ হয়। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের উৎকণ্ঠা স্বাভাবিক। মনে রাখতে হবে, জন্মগত হাত-পায়ের ত্রুটি মানেই শিশুটির ভবিষ্যৎ থেমে যাওয়া নয়।

ত্রুটির ধরন

জন্মগত হাত-পায়ের ত্রুটি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। কারও অতিরিক্ত আঙুল থাকে, যাকে বলা হয় Polydactyly। কারও দুই বা ততধিক আঙুল জন্মগতভাবে জোড়া থাকে, এটি ঝুহফধপঃুষু। আবার কারও হাত-পায়ের হাড়, টেন্ডন, নার্ভ কিংবা নরম টিস্যুর গঠনে সমস্যা থাকতে পারে। প্রতিটি ত্রুটির ধরন ও মাত্রা ভিন্ন হওয়ায় চিকিৎসার পরিকল্পনাও এক নয়।

কিছু ক্ষেত্রে শুধু পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত চিকিৎসাই যথেষ্ট হতে পারে। আবার কোনো কোনো শিশুর প্রয়োজন হতে পারে ফিজিওথেরাপি বা অস্ত্রোপচার। এখানেই পুনর্গঠনমূলক প্লাস্টিক সার্জারির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্লাস্টিক সার্জারি শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধির চিকিৎসা নয়; জন্মগত ত্রুটির ক্ষেত্রে এর অন্যতম লক্ষ্য হলো অঙ্গের গঠন ও কার্যক্ষমতা যতটা সম্ভব উন্নত করা।

চিকিৎসা

চিকিৎসা পরিকল্পনার আগে শিশুর বয়স, ত্রুটির ধরন, হাড়ের গঠন, টেন্ডন, নার্ভ ও রক্তনালির অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় মূল্যায়ন করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি অস্ত্রোপচারেই কাক্সিক্ষত উন্নতি সম্ভব হলেও জটিলতা অনুযায়ী ধাপে ধাপে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

প্রয়োজনে প্লাস্টিক সার্জন, শিশু সার্জন, অর্থোপেডিক সার্জন, ফিজিওথেরাপিস্টসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ একটি হাত শুধু হাত নয়, এটি দিয়ে শিশু লিখবে, আঁকবে, নিজের কাজ করবে, বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরবে। একটি পা শুধু হাঁটার জন্য নয়। এটি দিয়ে সে দৌড়াবে, খেলবে এবং জীবনের পথে এগিয়ে যাবে।

হাত-পায়ের গঠন পরিবর্তন করা নয়; লক্ষ্য একটি শিশুর স্বাভাবিক শৈশব, আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। কখনো একটি অস্ত্রোপচার শুধু শরীরের একটি ত্রুটি সংশোধন করে না, এটি বদলে দিতে পারে শিশুর ভবিষ্যতের পথ এবং পুরো পরিবারের মানসিক স্বস্তি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত