উজিরপুর

‘দশ টাকার মাস্টার’ খ্যাত এলাহির খোঁজ নিচ্ছেন না কেউ

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

একসময় গ্রামের শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন। অথচ জীবনের শেষ সময়ে এসে নিজেই অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষক মনিরুজ্জামান এলাহি। জরাজীর্ণ একটি ঘরে একাকী জীবনযাপন করছেন তিনি। একসময় তার হাতে শিক্ষার হাতেখড়ি নেওয়া অনেকেই আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই শিক্ষকের খোঁজ নেওয়ার মানুষ যেন নেই।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হস্তিশুন্ড গ্রামের হাজারো শিশুকে সামান্য টাকার বিনিময়ে শুধু অক্ষরজ্ঞানই দেননি, তাদের শিক্ষার ভিতও গড়ে দিয়েছেন মনিরুজ্জামান এলাহি। এ কারণে এলাকায় তিনি পরিচিতি পান ‘দশ টাকার মাস্টার’ নামে।

জীবনভর তিনি বিনা বেতনে গ্রামের অনেক অসহায় মানুষের সন্তানকে লেখাপড়া করিয়েছেন। শিক্ষকতা করতে গিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি। এখন নিজ ভিটায় একটি ভাঙা ঘরে বসবাস করছেন। বোনের ছেলেরা তাকে দুমুঠো খাবার দিয়ে কোনোমতে জীবন চালাতে সহায়তা করছেন।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তার পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (৫ অক্টোবর) উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা নিজে হস্তিশুন্ড গ্রামে গিয়ে মনিরুজ্জামান এলাহির সঙ্গে দেখা করেন। ঘুরে দেখেন তার জরাজীর্ণ বসতঘর। এ সময় তার হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন ইউএনও। একই সঙ্গে তার শারীরিক ও পারিবারিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং আর্থিক সহযোগিতা ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে চোখের পানি ফেলেন মনিরুজ্জামান এলাহি। প্রশাসনের এই উদ্যোগ যেন তার জীবনে নতুন এক বার্তা নিয়ে এসেছে, একজন শিক্ষক কখনোই পুরোপুরি একা নন।

হস্তিশুন্ড এইচ এম ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক নুরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘এলাহির কারণে অনেকেই আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তার শেখানো প্রথম তালপাতা আর দোয়াত-কালির লেখা এখন স্মৃতি হয়ে রয়েছে। সেই সময়ের অনেক শিশুর শিক্ষাজীবনের শুরুটা হয়েছিল তাঁর হাত ধরে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন মানুষ কতটা নিঃস্বার্থভাবে একটি প্রজন্মের জন্য কাজ করতে পারেন, এলাহি তার উদাহরণ।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত