এবার পালানোর মামলায় পালালেন শরিফুল

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৬ এএম

এবার পালানোর মামলায় ঢাকার আদালত থেকে পালালেন হত্যা মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম। তিনি এর আগে ২০২৫ সালের ১৯ জুন আদালত থেকে প্রথমবার পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে সেই মামলায় গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আনা হয়। হাজিরা শেষে আদালতকক্ষ থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এবারও কৌশলে পালিয়ে যান শরিফুল।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, ২০২৫ সালে পালানোর মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকায় আসামি শরিফুলকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। হাজিরা শেষে হাজতখানায় নেওয়ার পথে তিনি হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কনস্টেবল আবদুল আলিমকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই মামলা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ দন্ডবিধি (পেনাল কোড) অনুযায়ী, আইনগত হেফাজত থেকে কোনো আসামি পালিয়ে গেলে ২২৪ ধারায় মামলা হয় এবং এ ধারায় দুই বছর কারাদন্ডও অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে।

আদালত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, শরিফুলের বাড়ি দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জের হরিপুর গ্রামে। ২০১৮ সালে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় করা জিসান হোসেন হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি শরিফুল। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। সেই মামলায় ২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে আনা হয়। সেদিন আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের আঘাত ও কামড় দিয়ে হাতকড়া খুলে প্রথম দফায় পালিয়ে যান শরিফুল ইসলাম। ওই ঘটনার দিনই তৎকালীন হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে গত বছরের ১ অক্টোবর ফেনী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য গতকাল তাকে আদালতে তোলা হয়। তবে সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় গতকাল সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। শুনানি শেষে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের কনস্টেবল আব্দুল আলিম তাকে এজলাস থেকে হাজতখানার দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি অতর্কিতে ও অত্যন্ত কৌশলে হাতকড়া খুলে আদালত চত্বর থেকে এবারও পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. রবিউল জানান, আসামি পালানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত