সিইসির পদত্যাগ দাবি

দিল্লিতে মিছিল থেকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটক

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৭ এএম

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি টালমাটাল হয়ে উঠছে। সিইসির পদত্যাগে চাপ বাড়াতে গতকাল মঙ্গলবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে মিছিল করেছেন বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের সংসদ সদস্যসহ নেতাকর্মীরা। মিছিল থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে আটক করে পুলিশ। সংবাদ সংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়ার (ইসিআই) সদর দপ্তর অভিমুখে মিছিল শুরু করেন বিরোধী জোটের নেতারা। ভোট চুরি এবং ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে বাধা দেয় পুলিশ। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা পথরোধ করলে রাহুল গান্ধী ও

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক ব্যানার্জি পুলিশের বাঁধা টপকে ব্যারিকেডে উঠে পড়েন। এ সময় রাহুল বড় আকারের জাতীয় পতাকা নাড়তে থাকেন। বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতাকর্মীরা উচ্চস্বরে সেøাগান দিয়ে তাকে সমর্থন জানান। পরে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে আটক করে পুলিশের বাসে তোলা হয়।

তবে গান্ধী পরিবারের দুই সদস্য বাস থেকে লাফিয়ে নেমে ইসিআই ভবনের দিকে এগিয়ে যান। বিরোধী সংসদ সদস্যরা সংসদ ভবন চত্বর থেকে মিছিল শুরু করে ইসিআইয়ের সদর দপ্তর নির্বাচন সদনের দিকে যান। তাদের হাতে ছিল ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা ব্যানার। তারা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন। নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরের দিকে যাওয়ার পথে নীতি আয়োগ অফিস ও আকাশবাণী ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে তাদের আটকে দেওয়া হয়। এরপর তারা রাস্তায় বসে পড়ে প্রতিবাদ জানান। এই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। অন্যদের মধ্যে ছিলেন টিএমসি নেতা অভিষেক ব্যানার্জি ও ডেরেক ও‘ব্রায়েন, কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র, এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব এবং সিপিআই (এম) নেতা জন ব্রিট্টাস। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মিছিলকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেডও দেওয়া হয়। সংসদ সদস্যরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।

বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার সংসদ সদস্যরা, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী মঙ্গলবার সংসদ ভবন চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দিকে মিছিল করে এগিয়ে যান। তবে সংসদ স্ট্রিটে পুলিশ তাদের পথরোধ করলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তারা সেখানে অবস্থান ধর্মঘটে বসেন। নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরের দিকে যাওয়ার পথে নীতি আয়োগ অফিস ও আকাশবাণী ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে তাদের আটকে দেওয়া হয়। এর আগে সামাজিক মাধ্যমে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘জ্ঞানেশ ইট ইজ ডান ব্রো। টাইম টু রিজাইন’।

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠী কক্ষরোচ জনতা পার্টিও সিইসি’র পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটাধিকার ক্ষুণœ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইন্ডিয়া ব্লকের নেতারা এসআইআর নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানাতে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গেও দেখা করতে পারেন বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯টি বিরোধীদলের বৈঠকের পর এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত