বিসিএসে গেজেটভুক্ত হলেন নীলফামারীর সোহেল রানা

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ পিএম

অবশেষে গেজেটভুক্ত হয়েছেন নীলফামারীর মো. সোহেল রানা। সোমবার (৫ অক্টোবর) ৪৯তম বিসিএসের বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর মাধ্যমে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান সোহেল রানার।

 ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম হয়েও চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি।

গেজেটে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার খবর পেয়ে সোহেল রানা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার মনের সর্বোচ্চ যে চাওয়াটা ছিল, সেটি পূর্ণ হয়েছে। এর বাইরে আমার আর কোনো চাওয়া নেই।’ আমার মায়ের দোয়া ও আপনারা (গণমাধ্যম) যদি সহযোগিতা না করতেন তাহলে আমার এই স্বপ্ন অসম্পূর্ণ হয়ে থাকতো। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। পিএসসির চূড়ান্ত ফলে সাময়িকভাবে মনোনীত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জনের নাম ওই গেজেটে ছিল না। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম হওয়া সোহেল রানা।

গেজেটে নাম না থাকায় বিস্মিত ও হতাশ হয়ে পড়েন সোহেল ও তাঁর পরিবার। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা ব্যাপক আলোচনায় আসে। তখন সোহেল জানিয়েছিলেন, কী কারণে তাঁর নাম গেজেট থেকে বাদ পড়েছে, তা তিনি জানেন না। গেজেট প্রকাশের পর বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে ২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই ও পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বাদ পড়া প্রার্থীদের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ৫ অক্টোবর জারি করা হবে।

অবশেষে নির্ধারিত দিনেই ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের (শিক্ষা) মাধ্যমে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে সোহেল রানাসহ ৪০ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেন সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।তবে চূড়ান্ত নিয়োগের প্রথম গেজেটে নাম না থাকায় তাঁর বিসিএসে যোগদান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। নতুন প্রজ্ঞাপনে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। এখন শিক্ষা ক্যাডারে যোগদানের পথও তাঁর জন্য পরিষ্কার হলো।

সোহেল রানা নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের কৃষক আবু হোসেন ও গৃহিনী শাহিদা বেগমের ছেলে। অভাব-অনটনের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে তিনি সোনারায়-সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ এবং ২০১৬ সালে রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৪.৯২ অর্জন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন সোহেল। সেখানে ২০২০ সালে সিজিপিএ ৩.৫৪ নিয়ে স্নাতক এবং ২০২১ সালে সিজিপিএ ৩.৫৬ নিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম স্থান অর্জন করেন। 

 

 

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত