রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার বছরের শিশু ওয়াইস করনী আভানের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। একই সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান শিশুটির বাবা মিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিশুটির মা ফাহমিদা ইসলাম তমা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মিদুল ইসলাম বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর জ্বরের পর সতর্কতার জন্য আভানকে ইউনিভার্সাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ডেঙ্গু পরীক্ষায় তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে এবং প্লাটিলেটও স্বাভাবিক ছিল। পরিবারের অভিযোগ, এরপরও শিশুটির চিকিৎসায় ডেঙ্গুকে কেন্দ্র করে ভুল প্রটোকল অনুসরণ করা হয়।
পরিবারের দাবি, হাসপাতালে ভর্তির সময় শিশুটির তাপমাত্রা ৯৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকা সত্ত্বেও তাকে বারবার ইনজেকশন প্যারাসিটামল দেওয়া হয়। পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক ও অতিরিক্ত ফ্লুইড দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে শিশুটির এনটি প্রো-বিএনপিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার মান অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এসব চিকিৎসা সিদ্ধান্তের কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে পরিবার।
মিদুল ইসলাম বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আভানের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল এবং ১ অক্টোবর তাকে ছাড়পত্র দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই রাতের পর শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটে। ২ অক্টোবর অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ইউনিভার্সাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রায় ১২ ঘণ্টা মেডিকেল সামারি আটকে রাখে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবারের আরও অভিযোগ, পিআইসিইউতে শিশুটির চিকিৎসার সময় পর্যাপ্ত অভিজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি ছিল না এবং কোনো মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়নি। শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন ইনজেকশন কেনার জন্য বিপুল অর্থ নেওয়া এবং শিশুটির প্রকৃত শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরিবারকে সঠিক তথ্য না দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবার জানায়, তাদের কাছে ভয়েস রেকর্ড, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, ল্যাব রিপোর্ট ও বিভিন্ন আলোকচিত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে। এসব প্রমাণের ভিত্তিতে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ, চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার ও সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ড সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে শিশুটির মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
মিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার সন্তানকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই, যাতে আর কোনো বাবা-মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।’