ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করবে সাইবার সুরক্ষা আইন

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০২ এএম

সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নতুন করে ডিজিটাল ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী ও বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, প্রস্তাবিত আইনের অস্পষ্ট বিধান ও অপব্যবহারের আশঙ্কা বাক্স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারকে সংকুচিত করতে পারে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী-বাক্স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি এ সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস। সভা সঞ্চালনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন।

এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হয়েছে। সাংবাদিক, লেখক ও সাধারণ মানুষও এ আইনের শিকার হয়েছেন। লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাও সেই আইনের অপপ্রয়োগের ভয়াবহতা তুলে ধরে। সে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছিল, যাতে অনলাইন অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি নাগরিকদের অযাচিত গ্রেপ্তার ও হয়রানির সুযোগ সীমিত রাখা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে অপরাধের সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও ব্যাপক করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা বাক্স্বাধীনতা সংকুচিত করার আশঙ্কা তৈরি করছে।

তাই তিনি প্রস্তাবিত সংশোধনী থেকে সরে এসে জনগণের বাক্স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানান।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম-সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীর পক্ষে সরকার যেসব যুক্তি দিচ্ছে, সেগুলোর যৌক্তিকতা যাচাই করা জরুরি। অনলাইনে উসকানি, সহিংসতার আহ্বান, নারী ও শিশুর প্রতি হয়রানি এবং অপতথ্য ছড়ানোর মতো ঘটনা অবশ্যই উদ্বেগজনক। তবে এসব কর্মকা-ের অনেকগুলোই বিদ্যমান আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। ফলে এসব অপরাধ প্রতিরোধের যুক্তিতে নতুন করে সংশোধনী আনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বিধানগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা স্পষ্ট করা দরকার।

এবি পার্টি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে কিছু বিষয় অস্পষ্ট রাখা হয়েছে, যা আইনের অপপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিএনপিকে সতর্ক করে তিনি বলেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যেসব আইন ও বাহিনী গঠন করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেগুলো বিএনপির বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হয়েছে। তাই কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা থেকে সরে এসে আইনের অপপ্রয়োগের ঝুঁকি বিবেচনা করা প্রয়োজন। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টি অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করলেও বর্তমান সরকার কয়েকটি অধ্যাদেশ প্রায় অবিকল রেখে আইন করেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত