অগ্নিগর্ভ দিল্লি: আটক আইসা নেত্রী নেহা, হুঁশিয়ারি দীপকের

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন। তার অভিযোগ, দেশে যা চলছে, তাতে মনে হচ্ছে অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে।

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা আন্দোলনে রবিবারও (১১ অক্টোবর) উত্তপ্ত দেশটির রাজধানী দিল্লি। সকাল থেকেই পার্লামেন্ট স্ট্রিট, কনট প্লেস ও যন্তর মন্তর এলাকায় কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলে দিল্লি পুলিশ। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও কয়েকটি ছাত্র সংগঠন এদিন ফের বিক্ষোভের ডাক দিতেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়। খবর আনন্দবাজার ও এনডিটিভি’র। 

কনট প্লেসে আটক নেহা বোরা, সাংসদ বিট্টাসও

এদিন দুপুর নাগাদ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্যারিকেড টপকে বিক্ষোভকারীরা কনট প্লেসের দিকে এগোতে শুরু করেন। সামনের সারিতে ছিলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-র ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা। পুলিশ তাকে বাধা দেয় এবং পরে আটক করে। তার সঙ্গে থাকা আরও বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকেও আটক করা হয়।

এর কিছুক্ষণ আগেই একই এলাকা থেকে সিপিআই(এম)-এর রাজ্যসভার সাংসদ জন বিট্টাসকে আটক করে পুলিশ। তিনি কনট প্লেসে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, রবিবার একসঙ্গে চার-পাঁচ জনকে কোথাও জমায়েত হতে দেখলেই আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাস্তা বন্ধ, পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশ নিষেধ

আন্দোলনের জেরে ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। শনিবারের মতো পুরো মধ্য দিল্লি বন্ধ না করা হলেও পার্লামেন্ট স্ট্রিট সংযোগকারী রাস্তাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। অশোক রোড, টলস্টয় রোড ও জনপথে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে কস্তুরবা গান্ধী মার্গ, মিন্টো রোড ও বন্দে মাতরম মার্গে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।

নয়াদিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সচিন শর্মা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে দিল্লি পুলিশ বদ্ধপরিকর।

আন্দোলন থামবে না, হুঁশিয়ারি দীপকের

এদিকে আন্দোলন থামবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিজেপি প্রধান দীপক। রবিবার জেল থেকে ছাড়া পেয়েই তিনি মহারাষ্ট্রে নিজের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। যাওয়ার আগে তিনি বলেন, তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হলেও আন্দোলন থামবে না। ১০ অক্টোবর দিনটিকে তিনি একনায়কতন্ত্র শেষের শুরু হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা পরে সাংবাদিক বৈঠক করবেন।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন। তার অভিযোগ, দেশে যা চলছে, তাতে মনে হচ্ছে অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। রবিবার বিশেষ শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ কেন্দ্রকে নোটিস দেয়।

শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র জমায়েতের ক্ষেত্রে আইন মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা যেখানে কার্যকর নয়, সেখানে আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক করা যাবে না। মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, অপ্রয়োজনীয় ব্যারিকেড পর্যালোচনা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা অক্ষুণ্ণ রাখার নির্দেশও দেয় আদালত।

আদালত আরও বলে, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, অবৈধভাবে আটক বা নেমট্যাগ ছাড়া পুলিশকর্মীদের রাস্তায় থাকার যে অভিযোগ উঠেছে, তা বিধিবদ্ধ কর্তব্যের লঙ্ঘন। এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে হবে। মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত