অগ্নিকন্যা ইলা মিত্রের প্রয়াণ দিবস আজ

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম

শোষিত কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের উজ্জ্বল নাম ইলা মিত্র। তেভাগা আন্দোলনের এই নেত্রী নিজের জীবন ও সাহস দিয়ে হয়ে উঠেছিলেন কৃষক আন্দোলনের প্রতীক। নির্যাতন, কারাবাস কিংবা শারীরিক যন্ত্রণা কোনো কিছুই তাকে আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

আজ ১৩ অক্টোবর, ইলা মিত্রের ২৪তম প্রয়াণ দিবস। ২০০২ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পরে দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কৃষকের অধিকার ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদান আজও স্মরণীয়। ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি নেত্রী, সাঁওতাল ও শোষিত কৃষকদের প্রিয় ‘রানীমা’ কমরেড ইলা মিত্রের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক ‘ইলা মিত্র মেলা’। গত রবিবার নাচোল উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে ইলা মিত্র মেলা জাতীয় কমিটির আয়োজনে এই মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। আজ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে মেলার সমাপ্তি ঘটবে।

উল্লেখ্য, বিপ্লবী ইলা মিত্র ১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০২ সালের ১৩ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলায়। কমিউনিস্ট নেতা কমরেড রমেন মিত্রের সঙ্গে বৈবাহিক সূত্রে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তেভাগা আন্দোলন ও কৃষকদের অধিকার আদায়ের আপসহীন লড়াকু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও সাঁওতাল সম্প্রদায়ের কাছে পরম শ্রদ্ধার ‘রানীমা’ হয়ে ওঠেন।

ইলা মিত্রের জীবন কেবল একটি কৃষক আন্দোলনের ইতিহাস নয়; এটি সাহস, আত্মত্যাগ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার ইতিহাস। কৃষকের ন্যায্য অধিকার, নারীর নেতৃত্ব এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তার সংগ্রাম আজও প্রাসঙ্গিক। শোষিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা আগামী প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত