দিল্লিতে সিজেপির দুই নেতা আটক: 'ছড়িয়ে পড়বে যন্তর মন্তর'

যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এক দিন পরেই সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা-সহ দলের কয়েক জন কর্মী।

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এক দিন পরেই সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা-সহ দলের কয়েক জন কর্মী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে দিল্লির যন্তর মন্তরে পৌঁছে লোহার গেট ও পুলিশের ব্যারিকেড টপকে বিক্ষোভস্থলে ঢোকার চেষ্টা করেন তাঁরা। পরে দিল্লি পুলিশ তাদের আটক করে বলে জানিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। খবর এনডিটিভির।  

দীপকের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে দলের পতাকা নিয়ে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা-সহ কয়েক জন কর্মী লোহার গেট টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকছেন। তাঁদের আটকাতে এগিয়ে আসে সেখানে মোতায়েন পুলিশ। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তিও হয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে 'ভারতমাতা কি জয়' এবং 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। পরে পুলিশ তাঁদের আটক করে নিয়ে যায়।  

এই ঘটনার পরেই কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হন দীপকে। তার বক্তব্য, কোনও জায়গাকে প্রতিবাদস্থলের স্বীকৃতি থেকে বাদ দেওয়া গেলেও মানুষের প্রতিবাদের অধিকারকে মুছে ফেলা যায় না। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, 'প্রতিরোধকে কখনও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় না।' 

যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় দীপকে আরও বলেন, এবার দেশের নানা প্রান্তে নতুন নতুন 'যন্তর মন্তর' গড়ে উঠবে। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভয় থেকেই এই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটেছে।

দীপকের কথায়, 'প্রধানমন্ত্রীর ভয় স্পষ্ট। সেই কারণেই যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করছেন, যন্তর মন্তর আর প্রতিবাদস্থল না থাকলে আন্দোলন থেমে যাবে। কিন্তু তা হবে না। দেশের নানা প্রান্তে এবার আরও অনেক যন্তর মন্তর গড়ে উঠবে।' 

উল্লেখ্য, দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তর এত দিন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন, বিক্ষোভ এবং অবস্থান কর্মসূচির অন্যতম নির্ধারিত কেন্দ্র ছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দিল্লিতে প্রতিবাদ ও অবস্থান বিক্ষোভের জন্য নতুন তিনটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলি হল রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত