পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক তিনটি পৃথক জাতীয় কমিটি বাতিলের দাবিতে রাজধানীতে গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলো।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় পুরান পল্টন মোড়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে পল্টন মোড় থেকে বিজয়নগর হয়ে নয়াপল্টন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য দীপক শীলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শান্তিদেবী তঞ্চংগা, যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম এবং ছাত্রলীগ (জাসদ)-এর সভাপতি গৌতম শীলসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান সরকার রাজনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের পথ এড়িয়ে উল্টো পথে হাঁটছে। সম্প্রতি চুক্তিকে লংঘন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তারা আরো বলেন, পাশাপাশি গত ১০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্রসচিবকে সভাপতি করে নির্বাহী কমিটি এবং পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর মধ্যে দুটি কমিটির মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনী ও আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ওই তিনটি কমিটি বাতিল, অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার, চুক্তি মোতাবেক পরিবীক্ষণ ও উপদেষ্টা পরিষদ গঠন, সুনির্দিষ্ট সময়সূচিতে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কার্যকর এবং আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংলাপ শুরুর জোর দাবি জানান।