বিদ্যুৎ-পানি বিচ্ছিন্ন কার্যালয়ে ২১ ঘণ্টা অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য

‘উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে পানি ও বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া—এটা কোন ধরনের আন্দোলন? আমরা খুবই কষ্টে আছি।’

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম নিজ কার্যালয়ে বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ২১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন। তার সাথে ১১ জন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য মধ্যরাতে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি ‘দেশ রূপান্তর’কে নিশ্চিত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনি বলেন, ‘উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে পানি ও বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া—এটা কোন ধরনের আন্দোলন? আমরা খুবই কষ্টে আছি। দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। আমার সঙ্গে থাকা ১২ জনের বেশির ভাগই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মধ্যরাতে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হয়েছে। অসুস্থ একজনকে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠাতে চাইলেও আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে আটকে রেখেছে।’

পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে সোমবার সকাল পৌঁনে নয়টার দিকে উপাচার্য পদে যোগদানের ১৮ দিন পর তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। এ সময় তার সঙ্গে কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান ছাত্র ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে দপ্তর ত্যাগের জন্য দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। তবে তিনি কার্যালয় ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা সাড়ে ১২ টার দিকে ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন। দিনভর অবস্থানের পর রাতভরও শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান করেন। রাতে রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অং ছিং মারমা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ চালুর অনুরোধ জানালেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, নিজ হাতে লিখিত পদত্যাগপত্র হস্তান্তর অথবা প্রকাশ্যে পদত্যাগের ঘোষণা না দিলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরিফুল আলমকে উপাচার্য ভবন থেকে বের হতে দেওয়া হবে না। 

গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নতুন উপাচার্য নিয়োগের খবর আসার পর রাতেই শিক্ষার্থীরা সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে যোগ দিয়ে টানা কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। টানা আন্দোলনের মুখে ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইন যোগদান করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তবে আন্দোলন চলতে থাকায় তিনি ১৮ দিন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত