ওমরাহ করতে গিয়ে মৃত্যু কি সৌভাগ্যের নিদর্শন

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ এএম

হজ ও ওমরাহ অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় মানুষ পরিবার-পরিজন ছেড়ে পবিত্র মক্কার পথে যাত্রা করেন। এই সফরে কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেন। তখন স্বজনদের মনে প্রশ্ন জাগে, হজ বা ওমরাহ করতে গিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি কি সৌভাগ্যবান? আখেরাতে তার পরিণতি কী হবে? ইসলামের আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসুলের উদ্দেশ্যে হিজরত করে, অতঃপর তার মৃত্যু ঘটে, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে অবধারিত হয়ে যায়।’ (সুরা নিসা ১০০) আয়াতটি হিজরত সম্পর্কে নাজিল হয়েছে। এটিকে সরাসরি হজ বা ওমরাহর সফরে মৃত্যুবরণকারীর জান্নাত নিশ্চিত হওয়ার দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। তবে আয়াতটি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নেক কাজের পথে বের হওয়া এবং তার কাছে প্রতিদানের আশা রাখার শিক্ষা দেয়। হজ বা ওমরাহর উদ্দেশ্যে যাত্রাকারী মুমিনের জন্যও আল্লাহর রহমত ও উত্তম প্রতিদানের আশা করা যায়।

ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীর বিষয়ে হাদিসে বিশেষ সুসংবাদ এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আরাফাতের ময়দানে ইহরাম অবস্থায় উট থেকে পড়ে মারা যান। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল করাতে, ইহরামের দুই কাপড়ে কাফন দিতে এবং তার মাথা না ঢাকতে নির্দেশ দেন। এরপর তিনি বলেন, আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় পুনরুত্থিত করবেন। (সহিহ বুখারি ১২৬৫)

এই হাদিসে ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির বিশেষ মর্যাদা ফুটে উঠেছে। কেয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় পুনরুত্থিত হওয়ার সুসংবাদ তার জন্য এক বিশেষ অনুগ্রহের পরিচায়ক। তবে এই ঘটনা থেকে হজ বা ওমরাহ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী প্রত্যেক ব্যক্তির পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। কারণ হাদিসটিতে বিশেষভাবে ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীর কথা বলা হয়েছে।

সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর হজ ফরজ। ওমরাহর বিধান ও বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে ফকিহদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। উভয় ইবাদতের উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই এই সফরে যাওয়ার আগে নিয়ত বিশুদ্ধ করা, হজ ও ওমরাহর নিয়ম শেখা, তওবা-ইস্তিগফার করা এবং মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

একজন মুমিন আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদান আশা করেন, নিজের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চান এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে নেক আমলের মাধ্যমে সাজানোর চেষ্টা করেন। মৃত্যু কখন, কোথায় এবং কোন অবস্থায় আসবে, তা মানুষের অজানা। তাই প্রত্যেকের উচিত ইমানের ওপর অটল থাকা, ফরজ ও সুন্নত ইবাদত আদায় করা, মানুষের হক রক্ষা করা এবং আল্লাহর কাছে উত্তম পরিণতি কামনা করা।

হজ বা ওমরাহর সফরে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির জন্য জান্নাতের আশা করা, তার মাগফিরাতের দোয়া করা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

লেখক : খতিব, জামিউন নুর জামে মসজিদ, দক্ষিণ গফরগাঁও, ময়মনসিংহ

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত