বাংলাদেশকে জিততে দিলেন না কাবুলিওয়ালা

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৮ এএম

আফগান তরুণ ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল ৩৩২ বলে ১১১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে আউট হয়ে যখন ড্রেসিংরুমে ফিরলেন, সতীর্থ-কোচদের কাছ থেকে পিঠ চাপড়ানো বাহবা পান তিনি। তবে এসব নিয়ে যেন হেলদোল ছিল না তার। সোজা ডাগআউটে গিয়ে হতাশায় মুষড়ে পড়তে দেখা যায় তাকে।

আফগানদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১৪ মিনিট উইকেট আঁকড়ে পড়ে ছিলেন আতাল। গতকাল মূলত তার ব্যাটেই স্বপ্ন বুনেছিলেন আফগানরা। তিনি সেই দায়িত্ব ঠিকঠাকই পালন করেন। শেষ সেশনে যখন আউট হন, তখন মনে হয়েছিল এই বুঝি সব শেষ। তবে পথ হারায়নি আফগানিস্তান। বাংলাদেশের জয় ছিনিয়ে নিয়ে ড্র করেছে তারা। তাদের এ অর্জন জয়ের থেকে কোনো অংশে কম নয়। জিততে না পারার দায় বাংলাদেশ দলের ফিল্ডারদেরও। একাধিক রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া, ক্যাচ এবং স্টাম্পিং মিস করেছেন সফরকারীরা।

শেষ সেশনে বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪ উইকেট। বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো আতালকে দ্রুতই ফেরান তাইজুল ইসলাম। এতে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে যান লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশায় ডুবতে হয়েছে। নাজমুল হোসেন শান্তদের দেওয়া ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে ম্যাচ ড্র করেছেন আফগানরা। শেষ দিনে ৭ উইকেট তুলতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে অধিনায়ক শান্ত বলেন, ‘এটা হতাশাজনক। যদিও তারা দারুণ খেলেছে। কিন্তু আমরা কিছু সুযোগ তৈরি করেছিলাম, সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’

আতালকে আউট করার পর ইনিংসের ১২২তম ওভারে পরপর দুই বলে রানআউটের সুযোগ নষ্ট করে বাংলাদেশ। দুই ব্যাটারের ভুল বোঝাবুঝিতে উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও নাঈম হাসান কাছ থেকে থ্রো স্টাম্পে রাখতে পারেননি। পরের বলে ইয়ামিন আহমাদজাই রানআউট থেকে বাঁচেন। এরপর ডিপ মিডউইকেটে কাইস আহমেদের ক্যাচ ছাড়েন হাসান মাহমুদ। বারবার জীবন পেয়ে ৮০ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন কাইস।

শেষ দিকের ব্যর্থতা নিয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠে হতাশা, ‘এটা হতাশাজনক। তারা দারুণ খেলেছে। আমরা কিছু সুযোগ তৈরি করেছিলাম, কিন্তু সেই সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে পারিনি।’ স্পিনারদের পারফরম্যান্স নিয়েও তৃপ্ত নন তিনি, ‘গত কয়েক বছরে আমাদের দলের পারফরম্যান্স দেখলে মনে হয়, পেসাররা দারুণ কাজ করেছে। তবে কন্ডিশন ও আবহাওয়ার কারণে স্পিনাররা এই ম্যাচে ভালো করবে বলেই আশা করেছিলাম। যদিও তারা চেষ্টা করেছে এবং দারুণ ক্রিকেট খেলেছে।’

দিনের শুরুর গল্পটাও শেষের মতোই। গতকাল ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে আফগানিস্তান। প্রথম সেশনেই সুযোগ এসেছিল। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে শর্ট লেগে আতালের ক্যাচ ছাড়েন তানজিদ হাসান। তখন ৩৭ রানে ছিলেন এ ব্যাটার। সেই জীবন কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে ওঠেন তিনি। চোটের কারণে আফগান হাশমতউল্লাহ শহিদি মাঠ ছাড়ার পর ইকরাম আলী খিলকে নিয়ে গড়েন ৬৬ রানের জুটি। লাঞ্চের ঠিক আগে এবাদত হোসেনের বলে লিটন দাসের দুর্দান্ত ক্যাচে ৩৩ রানে ইকরাম ফিরলে আবারও ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা জাগে বাংলাদেশের।

এই ক্যাচ নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েন লিটন। প্রথম ইনিংসে ৫৩ ও দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১০২ রানের সঙ্গে উইকেটের পেছনে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯টি ডিসমিসাল তার। এক টেস্টে দুটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস ও ৯ ডিসমিসালের কীর্তি গড়া প্রথম উইকেটরক্ষক এখন তিনি। এমন রেকর্ড গড়ে লিটন বলেন, ‘এটা সত্যিই খুব কঠিন ছিল। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পাঁচ দিনের টেস্টে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে খেলা কঠিন। আমি নিজের মতো করে চেষ্টা করেছি।’ তবে রেকর্ডের থেকে ম্যাচ জিততে না পারার আক্ষেপই বেশি তার, ‘স্পষ্টতই আমরা ম্যাচটি জিততে চেয়েছিলাম। কিন্তু ক্রিকেট এভাবেই চলে। আফগানিস্তান খুব ভালো খেলেছে। উইকেটটি একটু ফ্ল্যাট ছিল। চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে তারা যেভাবে ব্যাট করেছে, তা দেখতে ভালোই লেগেছে।’

লাঞ্চের পরও আতালকে থামানোর সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। ব্যক্তিগত ৬৬ রানে বল ব্যাটে লাগার আগে স্টাম্পে আঘাত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও বেঁচে যান তিনি। এরপর ৭০ রানে থাকার সময় লিটনের স্টাম্পিংয়ের সুযোগও হাতছাড়া হয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জয়ের পথে বাধা হওয়ার পাশাপাশি টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন আফগান ওপেনার। তার শতকের পর জোড়া আঘাত মিরাজের। শুরুতে ৬০ বলে ৪ রান করা ইসমাতকে এবং একটু পর শহিদিকে (৩৬) ফেরান এ অফ স্পিনার। তবে আতাল তখনো উইকেটে। ২৯৯ বলে ১০৫ রান নিয়ে চা-বিরতিতে যান তিনি। সেখান থেকে ফিরেই তাইজুলের শিকারে পরিণত হন। আতালকে ফেরানোর পরও শেষের কাজটা সারতে পারেনি বাংলাদেশ। বারবার জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত ৮০ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন কাইস। জিয়া-উর-রহমান ১২ বল খেলে শূন্য রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত