ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন পোপ চতুর্দশ লিও। তবে তাঁর অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে ভ্যাটিকান। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রোমের জেমেলি হাসপাতালে প্রায় ৯০ মিনিটের অস্ত্রোপচারে তাঁর ডান ফুসফুসের নিচের অংশ অপসারণ করা হয়। পরে পরীক্ষায় তাঁর ফুসফুসে অ্যাডেনোকার্সিনোমা নামের এক ধরনের ক্যানসার শনাক্ত হয়। খবর বিবিসির।
ভ্যাটিকানের এক চিকিৎসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং এ সময় কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি। অস্ত্রোপচারের পর পোপ স্বাভাবিকভাবেই জ্ঞান ফিরে পান। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখার পর তাঁকে নিজের কক্ষে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
৭১ বছর বয়সী পোপের ফুসফুসে গাঁটটি প্রথম ধরা পড়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়। চিকিৎসকদের পরামর্শে সেটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সুস্থ হয়ে উঠতে তাঁকে প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পোপের হাসপাতালে ভর্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে একনজর দেখতে রোমের হাসপাতালের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন বহু মানুষ। গাড়িতে করে যাওয়ার সময় পোপ তাঁদের শুভেচ্ছা ও অভিবাদনের জবাব দেন। গাড়ির পেছনের জানালা নামিয়ে তিনি হাত নাড়েন এবং হাসিমুখে সমর্থকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন।
হাসপাতালের প্রবেশপথে পৌঁছালে কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় একজন কর্মী তাঁর অসুস্থতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলে পোপ হাসিমুখে কাঁধ ঝাঁকিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। অন্য একজন তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা আপনার পাশে আছি।’
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারটি সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পোপের ডান ফুসফুসের নিচের পুরো অংশ অপসারণ করা হয়েছে। ক্যানসার শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন ভ্যাটিকানের এক সূত্র।
এর আগে রোববার নিজেই নিজের অস্ত্রোপচারের খবর জানিয়েছিলেন পোপ লিও। ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স স্কয়ারের বারান্দা থেকে ঐতিহ্যবাহী অ্যাঞ্জেলাস প্রার্থনা ও আশীর্বাদ দেওয়ার পর তিনি এ কথা জানান।
পোপ বলেছিলেন, তাঁর ফুসফুসে শনাক্ত হওয়া গাঁটটি সীমাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং রোগটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়েছে। তবে চিকিৎসকেরা সেটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের পরামর্শ দিয়েছেন।
জেমেলি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের একটি দল তাঁর অস্ত্রোপচার করেন। সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর সব নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
ভ্যাটিকান আরও জানিয়েছে, সাধারণভাবে সুস্থ বলে পরিচিত পোপের শরীরে সংক্রমণ বা অসুস্থতার কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি।