গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে এক জাপানি সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ। মস্কোর অভিযোগ, জাপানের হয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতাসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছিলেন ওই সাংবাদিক। খবর বিবিসির।
গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকের নাম ইউকি ইমাই। তিনি জাপানের হোক্কাইডো শিমবুন সংবাদপত্রে কাজ করেন। রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলীয় সাখালিন এলাকায় তাঁকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের এক দিন পরই তাঁর রাশিয়া ছাড়ার কথা ছিল। রুশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পরে তাঁকে মস্কোয় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি আদালত তাঁকে বিচার শুরুর আগে কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
জাপান জানিয়েছে, ইমাইয়ের গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে তারা। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি টোকিও।
গত আগস্টে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফরের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। দ্বীপপুঞ্জটি রাশিয়া ও জাপান উভয়ই নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইমাই ‘জাপানের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে’ কুরিল দ্বীপপুঞ্জে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন।
জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইডো দ্বীপ ও রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের মাঝখানে অবস্থিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ। বর্তমানে দ্বীপপুঞ্জটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এর দক্ষিণের চারটি দ্বীপের মালিকানা দাবি করে জাপান। দেশটি ওই অঞ্চলকে ‘নর্দার্ন টেরিটরিজ’ নামে অভিহিত করে।
রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কালো পোশাক পরা মুখোশধারী তিন ব্যক্তি একটি হোটেলকক্ষে ঢুকে এক ব্যক্তিকে হাতকড়া পরাচ্ছেন। পরে তাঁকে একটি বিমানে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। ভিডিওর শেষ অংশে মস্কোর একটি আদালতে ওই ব্যক্তিকে খাঁচার মতো কাঠামোর মধ্যে দেখা যায়। তবে কখন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা কবে আদালতে শুনানি হয়েছে, তা ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়নি।
রুশ সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, বিচার শুরুর আগে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইমাইকে কারাগারে থাকতে হবে। রাশিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিদেশি সাংবাদিক হিসেবে রাশিয়ায় কর্মরত সংবাদদাতাদের ব্যবহার করে আমাদের দেশের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহের টোকিওর প্রচেষ্টা দুঃখজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের ঘটনাটি যে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, তা উল্লেখ না করে পারছি না।’ তবে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে—এমন অন্য কোনো সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের নাম তিনি উল্লেখ করেননি।
জাপান এ গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। দেশটির প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেওয়ার আগে জাপান এ বিষয়ে কিছু জানত না। এখন পর্যন্ত আটক সাংবাদিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।