চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ অংশে লবণ-মিশ্রিত পানিতে পিচ্ছিল হয়ে উঠছে সড়ক। এতে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে দোহাজারী থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত এলাকায় লবণবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান থেকে গড়িয়ে পড়া পানির কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকেরা।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন কক্সবাজার ও মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের দিকে অপরিশোধিত লবণবাহী শত শত ট্রাক চলাচল করে। নিয়ম অনুযায়ী, এসব ট্রাকে ত্রিপল দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে লবণ পরিবহনের কথা থাকলেও অনেক চালক তা মানছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ট্রাক থেকে লবণ-মিশ্রিত পানি গড়িয়ে পড়ছে মহাসড়কে।
রোদে শুকিয়ে এই পানি সড়কের ওপর সাদা আস্তরণ তৈরি করে। পরে বৃষ্টি বা কুয়াশার কারণে সড়ক ভিজে গেলে ওই আস্তরণ অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। এতে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গত কয়েক মাসে চন্দনাইশের দোহাজারী, গাছবাড়িয়া, রৌশনহাট ও বাগিচাহাট এলাকায় পৃথক দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, দিনের পর দিন লবণ-মিশ্রিত পানিতে মহাসড়ক পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়লেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকেরা। এ ক্ষেত্রে দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলেও তা বন্ধে পুলিশের কার্যকর তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে লবণবাহী ট্রাকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, নিয়ম মেনে লবণ পরিবহন নিশ্চিত করা এবং মহাসড়ক পরিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার বলেন, তিনি সম্প্রতি ওই থানায় যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, অরক্ষিত অবস্থায় লবণ পরিবহন করে মহাসড়কে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে লবণবাহী ট্রাকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মহাসড়কে নিয়মিত অভিযান পরিচালনারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।