প্রধানমন্ত্রী বললেন

কল্যাণমুখী কাজ যারা করবে তাদের পাশে থাকবে সরকার

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৭ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশ ও জাতি গঠনে কল্যাণমুখী কাজ যারা করবে সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে সরকার তাদের পাশে থাকবে। সমাজে নিজ নিজ কর্মে অসাধারণ অবদান রেখে প্রতিষ্ঠিত হওয়া তিন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানিয়েছেন।

সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজস্ব উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রমের কথা শোনেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা সহজ হবে এবং দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে জানান উপ-প্রেস সচিব।

বুয়েট থেকে পড়ালেখা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন নায়লা শারাফ। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি অন্য চাকরিতে না গিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই নানা শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন নায়লা।

অনুপ্রেরণাদায়ী আরেক ব্যক্তিত্ব নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন। জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই। তবে এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমাতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে তিনি ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪৫ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে এবং শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। আলতাফ হোসেনের এই অনন্য উদ্যোগের কথা শুনে নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজস্ব অর্থ ও শ্রমে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিনামূল্যে ও নিজ দায়িত্বে রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো বহু গাছ আজ বিশাল আকার ধারণ করে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রত্যেকের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সব ধরনের উৎসাহ ও সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার জন্য স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার (মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যান) পরিদর্শন করেছেন। গতকাল বুধবার সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রবেশের আগে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারটি পরিদর্শন করেন তিনি।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নিচে রাখা ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারটির ভেতরে প্রবেশ করে খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া দেখেন তিনি। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরীক্ষাগারটির কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, দেশের ৬৪টি জেলায় ভেজালবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্য পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের আটটি মহানগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পৃথকভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ৭২টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার ভ্যান সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে।

খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থাও রয়েছে। ভ্যানের বাইরের দিকে স্থাপিত মনিটরে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক ভিডিও প্রচার করা হয়।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও জনপ্রশাসন সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত