বিরোধীদলীয় নেতা বললেন

আমরা সবাই বাংলাদেশি, কেউ সংখ্যালঘু নই

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ এএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নই। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ সবাই বাংলাদেশি এবং এ দেশের গর্বিত নাগরিক। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে গতকাল বুধবার রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ সভা হয়। এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার, নিরাপত্তা, বৈষম্য, বঞ্চনাসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সভাশেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সবার পবিত্র দায়িত্ব। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সবাইকে হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াত আমির।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজাম-প ও মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা যে সহযোগিতা করেছেন, তার প্রশংসা করেছেন সম্প্রদায়টির নেতারা। তারা নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অসুবিধার কথা তুলে ধরে সেগুলো সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। বিরোধীদলীয় নেতা এ ব্যাপারে তাদের আশ্বস্ত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের বক্তব্য ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তাদের সঙ্গে ভবিষ্যতেও মতবিনিময় অব্যাহত থাকবে এবং পাশে থেকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা হবে।

সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী। শারদীয় দুর্গোৎসবের আগে তাদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তিনি জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানান। সুব্রত চৌধুরী বলেন, ধর্ম-বর্ণ ও দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দেশের উন্নয়ন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সভায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায় ও মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অর্পনা রায় ও সাধারণ সম্পাদক মিন্টন বৈদ্য।

এ ছাড়া মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ, বাংলাদেশ ঋষি পঞ্চায়েত ফোরাম, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি, বাংলাদেশ রবিদাস ফোরাম, ভোলানন্দগিরি আশ্রম ট্রাস্ট, বাংলাদেশ রবিদাস উন্নয়ন পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত