গাজীপুরের টঙ্গীতে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট, সেনাবাহিনী, বিজিবির সমন্বিত চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে ডাম্পিং ও পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় লাগবে।
গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় ওই কারখানায় আগুন লাগে। দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিস বলেছে, আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তসাপেক্ষে জানা যাবে।
ফায়ার সার্ভিস, কারখানা শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এদিন সকালে ওই ওষুধ কারখানার ৪ তলাবিশিষ্ট শেফা ভবনের ৪ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় কারখানায় ১৫০ শ্রমিক কাজ করছিলেন। তবে কিছু শ্রমিক টিফিন করতে বাইরে চলে যান। হঠাৎ আগুনের খবর শুনে শ্রমিকরা কারখানা থেকে দ্রুত বাইরে চলে যান। খবর পেয়ে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করে। তবে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে, আশপাশের কালো ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে গাজীপুরের সব স্টেশন, পূর্বাচল, মিরপুর, উত্তরাসহ মোট ২১টি ইউনিট এসে যোগ দেয়। ফ্যাক্টরিতে রাবার, অ্যালুমিনিয়ামের মতো দাহ্য পদার্থগুলো থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে। আগুন ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে দুপুর ১টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট ও বিজিবি যোগ দেয়।
কারখানার গেটে কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে আগুনের বিষয়ে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। শ্রমিকরা বলেন, ‘আমরা কাজ করছিলাম শেফা ভবনে। হঠাৎ আগুন লাগছে জানতে পেরে দৌড়ে বেড়িয়ে আসি। আমরা ওষুধ তৈরি করি। আমরা কেউ তৃতীয় তলায়, কেউ দ্বিতীয় তলায় ছিলাম। যারা পাশের পেনিসিলিন ভবনে ছিল তাদের বের হতে সময় লেগেছে। কয়েকজনের ধোঁয়ায় দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে কেউ তেমন আহত হয়নি বা হাসপাতালে নিতে হয়নি।
সালমা খাতুন নামে এক শ্রমিক বলেন, তিন তলায় কাজ করছিলাম। আমার সঙ্গের কয়েকজন বাইরে টিফিন খাইতে বের হয়েছিল। এমন সময় চার তলা থেকে রুমা আপা চিৎকার করে এসে বলে আগুন লেগেছে। এরপর আমরা দৌড়ে বেড়িয়ে এসেছি। আমরা শেফা ভবনে কাজ করতাম। ওই ভবনেই আগুন লাগে। পরে পাশের পঞ্চম তলা পেনিসিলিন ভবনেও আগুন ছড়ায়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, কারখানার চার তলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন পাশের আরেকটি ভবনেও ছড়ায়। ওষুধ কোম্পানি হওয়ায় সেখানে অনেক বেশি কেমিক্যাল ছিল। এ ছাড়া বিল্ডিংয়ে যে অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করা হয়েছে তার নিচে অনেক বেশি রাবার ছিল। রাবার ও কেমিক্যাল দাহ্য পদার্থ হওয়ায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। ভবনটির চতুর্থ এবং তৃতীয় তলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য তলায়ও ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের মধ্যে কেমিক্যাল ফাইটিংয়ের জন্য বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন কয়েকটি ইউনিট ছিল। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর কেমিক্যাল ইউনিট পাঠায়, বিজিবি তাদের মেডিকেল টিম ও জনবল পাঠায়। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তসাপেক্ষে জানা যাবে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ওই কারখানার সিনিয়র অ্যাডমিন ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বলেন, ধারণা করছি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের সময়ও এখন হয়নি। আমাদের কারখানায় রিজার্ভে এখন সাড়ে ৭ লাখ লিটার পানি সংরক্ষণ রয়েছে। ফায়ার সেফটি প্ল্যান রয়েছে। আমাদের কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতি নেই। কারখানায় ১৫০ জন কাজ করে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, অগ্নিকা-ের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিই। এরপরই ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এখানে আসে। বেশ কয়েকজন এখানে আটকা পড়েছিল, তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে ডাম্পিং চলছে, এটি সময়সাপেক্ষ বিষয়।