পটিয়ায় বৃদ্ধার দাঁত উপড়ে ফেলার অভিযোগ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

চট্টগ্রামের পটিয়ায় অংশীদারী পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধার ওপর হামলা চালিয়ে তাঁর ওপরের দুটি দাঁত উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ সময় বৃদ্ধার ডান হাতেও আঘাত লাগে। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূ আহত হন। এ ছাড়া ওই পরিবারের বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।

গত ১০ ও ১১ অক্টোবর উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাকখাইন গ্রামে দুই দফায় এসব ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বৃদ্ধা জামানা খাতুন বাদী হয়ে গত বুধবার রাতে পটিয়া থানায় মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাকখাইন জামে মসজিদ-সংলগ্ন একটি অংশীদারী পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে প্রতিবেশীদের কয়েকজনের সঙ্গে জামানা খাতুনের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সমাধান হয়নি।

এজাহারে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অন্য অংশীদারদের না জানিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই পুকুরে জাল দিয়ে মাছ ধরেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে জামানা খাতুনের পরিবারের সদস্য মো. হাসেমকে (৪৫) গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় লাঠিসোঁটা দিয়ে আঘাত করে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।

প্রাণভয়ে হাসেম বাড়িতে আশ্রয় নিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর পিছু নিয়ে বসতঘরে প্রবেশ করেন এবং ভাঙচুর চালান। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। গুরুতর আহত হাসেমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এর এক দিন পর, ১১ অক্টোবর বেলা আড়াইটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই পরিবারের বসতঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের দরজা, জানালা ও টিন ভাঙচুর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

জামানা খাতুন অভিযোগ করেন, বাড়িঘর ভাঙচুরে বাধা দেওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে ও তাঁর পুত্রবধূ ডেইজী আক্তারকে (২৮) গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় একজনের ঘুষির আঘাতে তাঁর ওপরের দুটি দাঁত পড়ে যায়। আরেকজন লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করতে গেলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। এতে তাঁর ডান হাতের কবজির ওপরের অংশের হাড়ে আঘাত লাগে। এ ঘটনায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জামানা খাতুন বলেন, ‘সামান্য বিরোধ থাকতেই পারে। তাই বলে দলবল নিয়ে হামলা করতে হবে? আমি এ হামলার বিচার চাই।’

তবে অভিযুক্ত প্রতিবেশীদের একজন নারগিছ আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘যাঁরা অভিযোগ করছেন, তাঁরাই প্রথমে আমার অসুস্থ স্বামী ফেরদৌসসহ কয়েকজনকে মারধর করেন। ঘরবাড়িতে হামলার অভিযোগ সত্য নয়। পরিকল্পিতভাবে ফাঁসাতে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে।’

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, বৃদ্ধার দাঁত উপড়ে ফেলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন কোনো অভিযোগ আসেনি। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত