জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি অর্থনৈতিক চাপকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে: পরিবেশমন্ত্রী

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, অর্থনৈতিক কাঠামোর পুনর্বিন্যাস এবং টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে ‘গ্রিন ডায়ালগ: জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে এ আয়োজন করা হয়। দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, পরিবেশ ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় চার শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভবিষ্যতের কোনো বিষয় নয়; এর ক্ষতিকর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। অতিরিক্ত গরমে কারখানার শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কমছে। কৃষিজমিতে লবণাক্ততা বাড়ছে, যা কৃষিজমি ও পানীয় জলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও বন্যায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন বন্ধ হলে রপ্তানি ও কর্মসংস্থানেও আঘাত আসতে পারে।

অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে, বেড়েছে মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানি খাতও চাপের মুখে রয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন সংস্থার আগামী পাঁচ বছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও আগের তুলনায় কম।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক) ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর (বাংলাদেশ) চিংফেং ঝাং। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল, টিকে গ্রুপের গ্রুপ ডিরেক্টর মো. মুস্তাফা হায়দার, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান ও অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহীর, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, হ্যামস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুর রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মনিরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও জলবায়ু অর্থায়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে (ইডকল) সম্মাননা দেওয়া হয়। হ্যামস গার্মেন্টস আন্তর্জাতিক লিড প্লাটিনাম সনদে বিশ্বসেরা স্কোর অর্জন করেছে। অন্যদিকে, সৌর হোম সিস্টেমের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের বিপরীতে কার্বন রাজস্ব হিসেবে ২৩ মিলিয়ন ডলার দেশে আনার কৃতিত্ব দেখিয়েছে ইডকল। প্রধান অতিথি আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের হাতে স্মারক তুলে দেন।

দেশের অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ পূর্বাভাসের কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে প্রক্ষেপণ করেছে সংস্থাটি। এটি চূড়ান্ত হিসাব নয়, বরং পূর্বাভাস। তবে অর্থনীতির এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশের সহনশীলতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় অভিযোজন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যথাযথ প্রস্তুতি ও অভিযোজনের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বন্যায় উৎপাদন কমে যাওয়া, যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া এবং শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম পদক্ষেপ নিতে হবে।

দেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের খাত নয়; এর সঙ্গে গ্রামীণ কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য হ্রাস, বাজারের স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা জড়িত। বাংলাদেশে সেচব্যবস্থা ভালো হলেও কৃষি এখনো অনেকাংশে আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি—দুই ধরনের পরিস্থিতিই কৃষির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে খুব বেশি দায়ী না হলেও এর বিরূপ প্রভাব আমাদের ওপর অত্যন্ত বেশি। এর ফলে বিশ্বব্যাপী নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি থেকে শুরু করে মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো নানা সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, প্রাত্যহিক জীবনেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অর্থনীতিরও বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস ঘটছে। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতির দিকে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করি, আজকের এ আলোচনা আগামী দিনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক হবে। ভবিষ্যতেও এ প্রভাব মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সড়ক নির্মাণের সঙ্গে পর্যাপ্ত নিষ্কাশনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, শহরের খালগুলো সচল রাখতে হবে এবং পয়োবর্জ্য শোধন ও সুনির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। কৃষির জন্য উর্বর মাটি ও নিরবচ্ছিন্ন পানির সরবরাহ নিশ্চিত করাও জরুরি। নদী পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে দূষণের উৎসেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য নদী অববাহিকা, শহর ও উৎপাদনকেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে নির্মাণের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও অর্থায়ন নির্দিষ্ট থাকবে।

তিনি বলেন, এডিবির ২৫ কোটি ডলারের ‘উপকূলীয় শহর জলবায়ু সহনশীলতা প্রকল্প’ বিশ্বের ২২টি শহরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাশয় পুনরুজ্জীবন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। অভিযোজন এবং পরিবেশগত সেবা কীভাবে একে অপরকে শক্তিশালী করতে পারে, এ প্রকল্প তার একটি বাস্তব উদাহরণ।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশে বার্ষিক গড় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসীর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ৩৩ লাখে। তাই সহনশীলতার বিষয়টি মাথায় রেখে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ধারাবাহিক উদ্যোগ কী ধরনের সাফল্য এনে দিতে পারে, বাংলাদেশ তা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে। ১৯৭০ সালের পর থেকে ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যুর হার শতগুণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। একটি সহনশীল অর্থনীতি গড়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের দৃঢ়সংকল্প নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

এডিবি বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে সব সময় প্রস্তুত বলেও জানান চিংফেং ঝাং। তিনি বলেন, সরকারের নেতৃত্বাধীন ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ’-এর মাধ্যমে সমন্বয় জোরদার করা এবং বিনিয়োগ উপযোগী প্রকল্প তৈরি করা সম্ভব। সরকারি ও সহজ শর্তের অর্থায়ন যেন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়, পাশাপাশি বেসরকারি মূলধন আহরণেও সহায়তা করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ যখন কপ-৩১ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী জলবায়ু অর্থায়নের দাবির পেছনে স্পষ্ট বিনিয়োগ অগ্রাধিকার এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফলের রূপরেখা থাকা উচিত। আমাদের চূড়ান্ত সাফল্য হবে বিষমুক্ত বাতাস ও পরিষ্কার পানি, উর্বর মাটি, নিরাপদ সমাজ, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সেই ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও তার অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে এডিবি সব সময় প্রস্তুত।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন আমাদের চিন্তা ও কর্মপরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত। প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখেই শিল্পের প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব। এ কারণে নতুন শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জলবায়ু পরিস্থিতি ও মানুষের জীবনযাত্রার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে, উৎপাদনশীলতা কমায় এবং কৃষি, শিল্প ও সেবাসহ অর্থনীতির প্রধান খাতগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ এত দিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে হিসাব করা হয়েছে, তাতে পরিবেশগত সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃত অর্থনৈতিক ব্যয় পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। এসব ব্যয় প্রবৃদ্ধির হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে দেশের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি বা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ আরও কম হতে পারে।

হ্যামস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুর রহমান বলেন, পরিবেশবান্ধব কারখানা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৩০০টি কারখানা এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। লিড সনদপ্রাপ্ত প্লাটিনাম কারখানার সংখ্যা ও সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। হ্যামস গ্রুপের চারটি কারখানার মধ্যে তিনটি লিড সনদ পেয়েছে। এর মধ্যে হ্যামস গার্মেন্টসের নিট কম্পোজিট কারখানা ১১০-এর মধ্যে ১০৮ স্কোর অর্জন করেছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ।

সবুজ কারখানা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু গাছপালা দিয়ে কারখানা সাজানোই পরিবেশবান্ধব কারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য নয়। এর মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হ্রাস করা। পাশাপাশি পানি পুনর্ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে কার্বন নিঃসরণও বাড়ে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ে তোলার কাজ করছেন।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, দেশের সেচব্যবস্থায় ডিজেলের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে একটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিকেএসএফ। এ ব্যবস্থায় উদ্যোক্তারা বহনযোগ্য সৌরপ্যানেল ব্যবহার করে সেচ মৌসুমে ডিজেলের বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবেন। সেচ মৌসুম শেষে একই প্যানেল দিয়ে চাতাল বা কৃষকের গুদামে ধান শুকানোও সম্ভব হবে। এতে অসময়ের বৃষ্টিতে ধান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমানো যাবে।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান ও অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহীর বলেন, সামনে কপ-৩১ সম্মেলন। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের কার্যকর ও শক্তিশালী দর-কষাকষি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য দর-কষাকষিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রতিনিধি প্রয়োজন, যাতে ধনী ও উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের অংশ আদায় করা সম্ভব হয়।

টিকে গ্রুপের গ্রুপ ডিরেক্টর মো. মুস্তাফা হায়দার বলেন, মার্চেন্ট পাওয়ারে রিয়েল-টাইম মিটারিং চালু হলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সাড়ে চার ঘণ্টায়ই কেবল ক্রেতাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দিয়ে পরবর্তী সময়ে গ্রিড বা পিডিবির সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে না। ফলে ২৪ ঘণ্টার হিসাবে সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ চাহিদা সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ করা সম্ভব হবে। নীতিগত সীমাবদ্ধতা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকে আটকে দেবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৃতীয় জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২০ দশমিক ৩ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। একই সময়ে মোট চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন এবং জ্বালানি দক্ষতা ১৯ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে এডিবি, আইএফসি ও বিভিন্ন বিশেষ তহবিলের অর্থায়ন কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত