ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। বিরোধের জেরে দুই বাড়ির লোকজন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের বাসিন্দা ইতালিপ্রবাসী ফজলুল করিম শহীদ ও মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরী পরস্পরের প্রতিবেশী। বাড়ির পূর্ব পাশের জমিতে দেয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে শনিবার (১০ অক্টোবর) বিরোধের সূত্রপাত হয়। এক পক্ষের দাবি, জমিটি তাদের নিজস্ব সম্পত্তি। অন্য পক্ষের অভিযোগ, সেখানে দেয়াল নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইতালিপ্রবাসী ফজলুল করিম শহীদ বলেন, তারা নিজেদের জমিতে দেয়াল নির্মাণ করে ঘর তৈরি করছেন। ইয়াসিন চৌধুরীদের ফেনী-পরশুরাম সড়কের দিক দিয়ে চলাচলের রাস্তা রয়েছে এবং তারা সেই পথ ব্যবহার করেন। নিজেদের প্রয়োজনে নিজস্ব জমি ব্যবহার করায় তাদের সমস্যা কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অন্যদিকে মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরীর অভিযোগ, পূর্বপুরুষদের আমল থেকে তারা ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছেন। তার দাবি, জমিটির মালিক না হয়েও হুমায়ুন কবির, মো. ইউনুছ ওরফে টিপু এবং ফজলুল করিম শহীদসহ কয়েকজন বহিরাগতকে নিয়ে জোরপূর্বক দেয়াল নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পরশুরাম মডেল থানাকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।
এদিকে একই বাড়ির বাসিন্দা মো. ইউনুছ বলেন, যে জায়গায় দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটি প্রবাসী শহীদদের জমি। পিলার দিয়ে জমির সীমানাও চিহ্নিত করা রয়েছে। ইয়াসিন চৌধুরীর অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
ইউনুছের ভাষ্য, ইয়াসিন চৌধুরীর বাড়ির পূর্ব পাশের দেয়াল নির্মাণ করে ফটক বন্ধ করে দেওয়ায় ওই দিক দিয়ে চলাচল করা যায় না। আগে পশ্চিম পাশ দিয়ে যাতায়াত করা হলেও সেখানে দেয়াল ও ফটক নির্মাণের কারণে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফজলুল করিম শহীদ তাঁদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
ফজলুল করিম শহীদের জেঠাতো ভাই ছবির আহমেদ ফোরকান বলেন, জায়গাটি তাদের মর্সি সম্পত্তি। সিএস ও বিএস খতিয়ানসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে জমিটি তাদের নামে রয়েছে। ইয়াসিন চৌধুরীদের বাড়ির পশ্চিম পাশে চলাচলের রাস্তা আছে। এরপরও কেন এমন অভিযোগ করা হচ্ছে, তা বুঝতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, জায়গাটি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। জমির প্রকৃত মালিকানা, চলাচলের পথের আইনগত অবস্থান এবং বিরোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হলে বিষয়টির সমাধান হবে।