দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ২৭২৭ মণ্ডপে দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় স্থাপন করা হবে ১৮টি বেইজ ক্যাম্প।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান।

তিনি জানান, নিরাপত্তার আওতায় থাকা মণ্ডপগুলোর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ৪২৫টি, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকায় ১৮৩টি মণ্ডপ রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

পূজা ঘিরে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, সংবেদনশীল কোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে। সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প, পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্বিঘ্নে উৎসব উদযাপনের আশ্বাস দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির চলমান অভিযান ও সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমের তথ্যও তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এ সময়ে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা, ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, প্রায় ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, ৯ কেজি হেরোইন এবং ২৮ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১ হাজার ৫৩৩ জনকে।

একই সময়ে অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযানে ৭৮টি পিস্তল, ৭টি রাইফেল, একটি এসএমজি, ৭টি গ্রেনেড, ১২টি মাইন ও ৩ হাজার ২১৩ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মানবপাচার প্রতিরোধে নারী ও শিশুসহ ৪২ জনকে উদ্ধার এবং ২০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। এ ছাড়া ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় ১৮২টি ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি।

কৃষি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ১৫৮ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার, ১ লাখ ২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং ১৫ হাজার লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম, ড্রোন ও রাতের পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের চিকিৎসাসেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত