দিল্লির 'তেরঙা যাত্রায়' আটক ১৫০, অভিজিৎ-নেহার মুক্তি দাবি

'অভিজিৎ দীপক ও নেহা বোরাকে কোথায় রাখা হয়েছে? তাদের অবস্থান গোপন রাখা বেআইনি ও অমানবিক।'

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি)-র ‘লেহরা দো তিরাঙ্গা’ বা 'তেরঙা যাত্রা' ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক ও সংলগ্ন এলাকায় পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ অন্তত ১৫০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে। খবর দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া। 

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন সিজিপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ও আইসা' ছাত্র নেত্রী নেহা বোরাও। এই আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি তুলেছেন তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন।

গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর সেখানে প্রবেশ করায় সিজিপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কাকে গ্রেপ্তার করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আহ্বানে সিজিপি নেতা অভিজিৎ দীপক কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জমায়েতের ডাক দেন।

তবে দিল্লি পুলিশ ও এনডিএমসি জানিয়ে দেয় যে, কনট প্লেস কোনো অনুমোদিত প্রতিবাদের স্থান নয় এবং সেখানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। পুলিশি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লুজ়িয়েন্টস এলাকায় ৬ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী এবং অতিরিক্ত ৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাজীব চক, সেন্ট্রাল পার্ক, প্যালিকা বাজার ও যন্তর মন্তর চত্বরে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। ড্রোনের মাধ্যমেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

শুক্রবার কনট প্লেসের দিকে যাওয়ার পথে পুলিশ অভিজিৎ দীপককে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেয়। অন্যদিকে, মণ্ডি হাউসের কাছে মার্চ শুরু করার কিছুক্ষণ পরই আটক করা হয় নেহা বোরাকে। সিজিপি এবং বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের (যেমন এসএফআই, ডিওয়াইএফআই, এআইএসএফ) কর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানালে পুলিশ তাদেরও আটক করে।

এই ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, 'অভিজিৎ দীপক ও নেহা বোরাকে কোথায় রাখা হয়েছে? তাদের অবস্থান গোপন রাখা বেআইনি ও অমানবিক।'

একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও পুলিশের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, দেশের নিজস্ব রাজধানীতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য যুবসমাজকে আটক করা অঘোষিত জরুরি অবস্থার শামিল।

অন্যদিকে, মুম্বাইয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আজাদ ময়দানে সিজিপিকে ‘লেহরা দো তিরাঙ্গা’ র‍্যালি করার অনুমতি দেওয়া হয়। দিল্লিতে ধরপাকড় ও আটক ব্যক্তিদের মুক্ত করার দাবি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত