গুয়াংজুতে কনস্যুলেট অফিস চান চীনা প্রবাসীরা

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ এএম

চীনের অর্থনৈতিক, শিক্ষা, চিকিৎসা ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর গুয়াংজু। বিশে^র বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কারণে এই শহরে আসে মানুষ। এর গুরুত্ব অনুধাবন করে অন্তত ৭০টি দেশ এখানে কনস্যুলেট অফিস স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ থেকেও যারা চীনে যান তাদের বেশিরভাগই এখানে যান। অথচ গুয়াংজুতে বাংলাদেশের কোনো কনস্যুলেট অফিস নেই। এমন পরিস্থিতিতে এর গুরুত্ব অনুভব করে দ্রুত গুয়াংজুতে কনস্যুলেট অফিস খোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবরে আবেদন জানিয়েছেন সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। গুয়াংজু ও আশপাশের অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও ছাত্রসহ সবার পক্ষে এই আবেদন করেছেন গুয়াংজু ফ্রেন্ডশিপ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড এবং গুয়াংজুতে রাঁধুনি রেস্টুরেন্টের মালিক মো. সাখাওয়াত হোসেন কানন।

প্রধানমন্ত্রী বরাবরে পাঠানো আবেদনের কপি আরও পাঠানো হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত, বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বিসিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্টের কাছে।

আবেদনে বলা হয়, গুয়াংজু চীনের গুয়াংডং প্রদেশের রাজধানী এবং দেশটির অন্যতম অর্থনৈতিক, শিক্ষা, চিকিৎসা ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর। এটি চীনের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক শহর এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের হংকং ও ম্যাকাওর সঙ্গে শিল্প, বাণিজ্য ও ব্যবসার অন্যতম হাব হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর দুবার ক্যান্টন ফেয়ার এই গুয়াংজু শহরেই অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতা এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা এই ফেয়ারে অংশ নেন। চীনের দুটি ফ্রি ট্রেড জোন এই গুয়াংডং প্রদেশে অবস্থিত যা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক সম্ভাবনাময় ও বাণিজ্যিক সুবিধা বয়ে আনবে।

ওই অঞ্চলের গুয়াংজু শেনঝেন, ডংগুয়ান, ফোশান ও ঝোংশান শহরে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন। এছাড়া, প্রতি মাসে প্রায় আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার ব্যবসায়ী, পর্যটক ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী বাংলাদেশি গুয়াংজু শহরে যাতায়াত করেন। বাংলাদেশ বিমান, ইউএস-বাংলা, চায়না সাউদার্ন, চায়না ইস্টার্ন এবং শ্রীলঙ্কান, থাই ও মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসসহ একাধিক এয়ারলাইনসের মাধ্যমে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টার ফ্লাইটে ঢাকা থেকে গুয়াংজু আসা যায়।

আবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে চীনে বাংলাদেশের কনস্যুলেট সেবা মূলত বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কুনমিংয়ে অবস্থিত কনস্যুলেট জেনারেল অফিসে কেন্দ্রীভূত। দক্ষিণ-পূর্ব চীনের, বিশেষ করে গুয়াংডং, গুয়াংশি, ফুজিয়ান, হুনান, হাইনান প্রদেশ ও শেনঝেন, ডংগুয়ান, ফোশান এবং ঝোংশান শহরে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের কনস্যুলেট সেবা গ্রহণের জন্য বেইজিংয়ে (প্রায় ২,১২৬ কিলোমিটার) অথবা কুনমিংয়ে (প্রায় ১,৩৪০ কিলোমিটার) দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়।

এ ছাড়া, কেউ মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠাতে প্রায় ২০-২৫ লাখ টাকার প্রয়োজন পড়ে এবং নানাবিধ ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয়। কোনো সংস্থার সাহায্য ছাড়াই স্থানীয় বাংলাদেশিদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে মরদেহ দেশে পাঠাতে হয়, যা মৃত ব্যক্তির পরিবার এবং আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ও সম্মানজনক নয়। এসব জরুরি সেবা গ্রহণের জন্য প্রবাসীদের ও মৃত ব্যক্তির পরিবারের প্রচুর সময়, অর্থ ও ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়।

চীনে অনেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বিভিন্ন কারণে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট যারা দেখার আছেন তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারছেন না। বিশ্বের প্রায় ৭০টিরও অধিক দেশের কনস্যুলেট অফিস বা দূতাবাসের অফিস গুয়াংজু শহরে রয়েছে। শুধু বাংলাদেশের কনস্যুলেট অফিস নেই।

চীনে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের বিশ^াস, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে তাদের দীর্ঘদিনের এ আশা পূরণ হবে। সেখানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি আরও সুদৃঢ় করবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা সহজ ও মর্যাদাপূর্ণ করবে।

যেসব দেশের কনস্যুলেট অফিস রয়েছে গুয়াংজুতে : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নেপাল, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, ইরান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরাকের কনস্যুলেট অফিস রয়েছে গুয়াংজুতে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, ইতালি, স্পেন, গ্রিস, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, রাশিয়া, ইউক্রেন ও বেলারুশের কনস্যুলেট । উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু, কিউবা ও ভেনিজুয়েলা। আফ্রিকা ও ওশেনিয়া দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, ঘানা, মালি, অ্যাঙ্গোলা, কঙ্গো, তানজানিয়া, উগান্ডা, সুদান, জাম্বিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড।

ক্যান্টন ফেয়ার : ক্যান্টন ফেয়ার হলো চীনের গুয়াংজু শহরে আয়োজন করা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। ১৯৫৭ সাল থেকে এ মেলা নিয়মিতভাবে বছরে দুবার (বসন্তকাল ও শরৎকাল) বসে। ২০২৬ সালের শরৎকালের ১৪০তম ক্যান্টন ফেয়ার গত ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত