নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাবেক সেনাসদস্য ও সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী আনন্দিতা রাংসা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার পর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ।
লুৎফুজ্জামান ফকির ‘রূপসী বাংলা’ নামে একটি বেসরকারি আইপিটিভির নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতেন।
শুক্রবার রাতে স্বজনদের সঙ্গে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন আনন্দিতা রাংসা। অভিযোগপত্রে নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ না করে ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ সময় আনন্দিতা বলেন, যারা তার স্বামীকে এভাবে কষ্ট দিয়ে হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। তিনি তাদের ফাঁসি চান।
আনন্দিতা বলেন, তার দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। স্বামীকে হত্যার পর সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। স্বামীই ছিলেন তার ভরসা। এখন তিনি নিজেকে ও সন্তানদের নিরাপদ মনে করছেন না।
তিনি আরও বলেন, বাড়ির পাশ থেকেই তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়িতে ফিরে রাত কাটানো নিয়েও তিনি আতঙ্কিত। কখন কী ঘটে, সেই আশঙ্কায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিকে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাসুদ রানা। এ সময় তিনি বলেন, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় কাজ করছেন। পাশাপাশি ছায়া তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করা হবে। অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকেও তথ্য নিয়ে যৌথভাবে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, এসআরবির পক্ষ থেকে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র, অস্ত্রবাজ, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এছাড়া বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং বিভিন্ন মামলার তদন্তের কাজও করা হয়। আইনগত সহায়তার জন্য তাদের সরকারি নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দুর্গাপুরের বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলঞ্জি এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির সামনের একটি চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন লুৎফুজ্জামান ফকির। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় এবং তিনি পাঁচটি গুলিবিদ্ধ হন। পরে পুলিশের সহায়তায় স্থানীয়রা তাকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। এর মধ্যে একটি ৯ এমএম তাজা গুলিও উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে কলমাকান্দার পোগলা ইউনিয়নের চরুলিয়া মাইজপাড়া ফকিরবাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগেও গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুরের তেরি বাজারের সোমেশ্বরী নদীর পাড়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির। ওই মামলার তদন্ত শেষে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দুজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
নেত্রকোনার সাংবাদিক হত্যার ২৪ ঘণ্টা পার, এখনো হয়নি মামলা