মুক্তি পেলেন নেহা বোরা, দিপকের অবস্থান অজানা

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২১ এএম

ভারতে নির্বাচনী তালিকায় অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছে বিরোধী দলগুলো, ককরোচ জনতা পার্টিসহ (সিজেপি) শিক্ষার্থী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গতকাল শনিবার নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা আইনে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরাকে শনিবার ভোরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বিক্ষোভ মিছিলের আগে আটক করা হয়েছিল তাদের।

শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার পর দিপকেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার দিনের শেষ দিকে তাকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালতে হাজির করার কথা ছিল। দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারায় আটকসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে ছাড়া পান বোরা। সিজেপির আইন বিষয়ক প্রধান রতœা সিং অভিযোগ করেছেন, দিপকের অবস্থান অজানা এবং আইনজীবীরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এক্স-এ তিনি লেখেন, অভিজিৎকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এসইএম আদালতে হাজির করা হবে। সিজেপির আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছে। তারা পাঁচ দিনের কারা হেফাজতে রয়েছেন।

মুক্তি পাওয়ার পর নেহা বোরা অভিযোগ করেন, বিনা কারণে বিক্ষোভকারীদের আটক করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেফাজতে রাখা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ভয় ছড়াতে এসব পদক্ষেপ ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, এ দেশে দীর্ঘদিন ধরেই বিনা কারণে মানুষকে আটক করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখার ঘটনা ঘটে চলছে। চলমান আন্দোলনে প্রতিদিনই এটি ঘটছে বলে এখন তা আরও স্পষ্ট। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়াই এ ধরনের বেআইনি আটকের আসল উদ্দেশ্য। অভিজিৎ দিপকেসহ আটক সব বিক্ষোভকারীর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন এই ছাত্রনেত্রী।

সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে নয়াদিল্লি ফিরে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ মার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার বিকেলে তাদের কর্মসূচি আয়োজন করার কথা ছিল। তবে দিনের শুরুর দিকে তেরঙ্গা মার্চের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দিল্লি পুলিশ সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকের বাড়িতে নোটিস পাঠায়। সেই নোটিসে তাকে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করতে নিষেধ করা হয়। পরে তাকে করোলবাগের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (শারদ পাওয়ার) মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়। একই সময়ে পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী কনট প্লেসে জমায়েত হওয়া বিশাল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত