ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে অপ্রীতিকর ঘটনা

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ এএম

ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের তৃতীয় বিভাগ লিগের বাছাই পর্বে একটি রান-আউটের সিদ্ধান্ত কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল পূর্বাচলের ন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ড মাঠে বসুন্ধরা ক্রিকেট নেটওয়ার্কের বিপক্ষে ম্যাচে মিরপুর ওয়ারিয়র্স এসসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আম্পায়ারদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একজন আম্পায়ারকে ব্যাট দিয়ে মারতে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতির একপর্যায়ে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যায় দলটি। ম্যাচ রেফারির দেওয়া প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত ক্লাবটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস।

লিগে গতকাল চলছিল শেষ ১৬তম পর্বের খেলা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের এই ম্যাচে মিরপুরের ইনিংসের ১০তম ওভারের পঞ্চম বলে ঘটনার সূত্রপাত। তখন ১৪৭ রান তাড়ায় মাত্র ৫২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দলটি। ওই সময় ব্যাটসম্যান গাজী আব্দুর সায়েমের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন ফিল্ডাররা। আম্পায়ার সেই আবেদন নাকচ করেন। এরপর দুই ব্যাটসম্যান রান নেওয়ার চেষ্টা করলে বলের দিকে ছুটে আসা ফিল্ডারের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। বলটি মাঝামাঝি পড়লে ফিল্ডার সেটি ধরতে এগিয়ে যান, এতে ব্যাটসম্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। নন-স্ট্রাইক প্রান্তের ব্যাটসম্যান মেহেরব হাসান রাফি ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই ফিল্ডারের থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে যায়। ফিল্ড আম্পায়ার রান-আউট ঘোষণা করেন।

এ সিদ্ধান্তই পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। মিরপুর ওয়ারিয়র্সের কর্মকর্তারা আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানান এবং ম্যাচ রেফারি সৈয়দ মাহবুব উল্লাহর কাছে গিয়ে বিষয়টি আউট তুলে নেওয়ার আবেদন করেন। এরপর ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ম্যাচ রেফারি আউটের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। জানা গেছে, বসুন্ধরা দলের কর্মকর্তারাও সেই সিদ্ধান্ত রাজি ছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে বেশ দেরি হয়ে গেছে। নতুন ব্যাটসম্যান মাঠে নামায় মিরপুর। নতুন একটি বলের খেলাও হয়ে যায়।

এ নিয়ে ম্যাচ রেফারি মাহবুব বলেন, ‘আমি ঘটনাটির ভিডিও দেখতে গিয়েছিলাম। ফিরে আউটের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বলি। তখন তারা জানায়, এরই মধ্যে নতুন ব্যাটসম্যান নামিয়ে এক বল খেলানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তো এই ব্যাটসম্যানকে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ জন্য তারা আবারও ঝামেলা সৃষ্টি করে। খেলা বন্ধ রেখে মাঠ ছেড়ে চলে যায়।’

সেখানে উপস্থিত একজন নিশ্চিত করেন, মিরপুরের দলটির একজন ব্যাটসম্যান আউটের সিদ্ধান্ত দেওয়া ফিল্ড আম্পায়ারের দিকে ব্যাট উঁচিয়ে তেড়ে যান। এমনকি দলটির একজন কর্মকর্তা নিজের রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে ম্যাচ রেফারিকে হুমকি দেন বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে মূল অভিযুক্তসহ মিরপুর ওয়ারিয়র্সের দুজন কর্মকর্তাকে মেসেজ দিলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এদিকে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি মাহবুব, ‘আমার যা বলার, সেগুলো বিসিবিকে দেওয়া রিপোর্টে উল্লেখ করেছি। আজ সশরীরে সিসিডিএমের সঙ্গে কথা বলব।’

এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির কথা ভাবছে সিসিডিএম। একজন কর্মকর্তা জানান, প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুযায়ী অভিযোগের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় মিরপুর ওয়ারিয়র্সের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং পাশাপাশি ১০ ম্যাচ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা কিংবা এক বছর পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হতে পারে। আজ আসতে পারে এ সিদ্ধান্ত।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত