শৃঙ্খলা মানছেন না ক্রিকেটাররা

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৩ এএম

আউটের সিদ্ধান্ত মানতে অনীহা, আম্পায়ারের দিকে অসন্তুষ্টির দৃষ্টি, মাঠেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ, সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন তর্কে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চলতি আসরে এমন আচরণের জন্য প্রথম একাদশের প্রথম দুই রাউন্ডে শাস্তি পেয়েছেন সর্বমোট সাত ক্রিকেটার।

শাস্তি পাওয়া সাত ক্রিকেটার হলেন আফিফ হোসেন, নাঈম শেখ, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, মইনুল ইসলাম, চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান, সাদিকুর রহমান ও সৈকত আলী। জানা গেছে, তাদের মধ্যে ছয়জনের ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ করে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অঙ্কনের জরিমানা হয়েছে ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ। সব মিলিয়ে জরিমানার অর্থ দেড় লাখ টাকা। পাশাপাশি প্রত্যেকে একটি করে ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছেন। সবার অপরাধের ধরনও একই। টুর্নামেন্টের আইনের ম্যাচ রেফারির আচরণবিধির ২.৮ ধারা লঙ্ঘন। অর্থাৎ মাঠে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ।

এদের মধ্যে আফিফ এবং নাঈম দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলছেন। অথচ তারা দুজনে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডের আলাদা ম্যাচে আউটের সিদ্ধান্ত নিয়ে আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া দেখান। এ নিয়ে বিসিবির একজন ম্যাচ রেফারি নিজের নাম প্রকাশ করতে না চেয়ে বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্রিকেটারদের এটি বোঝানো উচিত যে, আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সঠিক হোক কিংবা ভুল, মাঠের ভেতরে তা মেনে নেওয়াটাই নিয়ম। আম্পায়ার আউট দিলে বিলম্ব না করে মাঠ ত্যাগ করতেই হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আউট দেওয়ার পর ক্রিকেটাররা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকে কিংবা অসন্তোষ প্রকাশ করে। যেমন এবার নাঈম এবং আফিফ একটু বেশিই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারা দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে। এটা তো ভালোভাবেই জানে যে, আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত যেটাই হোক, সেটির ওপর ভিত্তি করে মাঠে এ রকম অনাকাক্সিক্ষত আচরণ করার কোনো সুযোগ নেই।’

আফিফ খুলনা, নাঈম ঢাকা বিভাগীয় দলের হয়ে খেলছেন। এই দলের অধিনায়ক অঙ্কন। তিনিও দীর্ঘদিন জাতীয় দলের সঙ্গে আছেন। সাদিকুর চট্টগ্রাম, মইনুল বরিশাল, রিজওয়ান রংপুর ও সৈকত এবার সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মাত্র দুই রাউন্ডেই এই সাত ক্রিকেটারের শাস্তির ঘটনা ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ম্যাচ কর্মকর্তাদের মতে, আউট হওয়ার পর মাঠ ছাড়তে অযথা বিলম্ব করা কিংবা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অসন্তোষ দেখানো খেলার পরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। খেলোয়াড়দের এমন আচরণ অন্যদের মধ্যেও একই প্রবণতা ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। তাই শাস্তির মাধ্যমে শুধু সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে সতর্ক করাই নয়, অন্যদের জন্যও একটি বার্তা দিতে চাইছে বোর্ড।

একজন আম্পায়ার এসব ঘটনা নিয়ে বলেন, ‘একটি চার দিনের ম্যাচে অন্তত ৪০টি কঠিন আবেদনের মুখোমুখি হতে হয় আম্পায়ারকে। সেখানে যদি তিনি ৩৮টি সঠিক সিদ্ধান্ত দেন আর ২টি ভুলও করেন, তবে তার সাফল্যের হার দাঁড়ায় ৯৫ শতাংশ! এটাকে খারাপ বলবেন কীভাবে! খেলোয়াড়রা যখন সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেয় কিংবা বাজে শট খেলে আউট হয়, এজন্য তো তাদের জরিমানা করা হয় না। আচরণগত সমস্যা থাকলে সেটির ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

আম্পায়ারিংয়ের মান উন্নয়ন এবং আচরণবিধি কার্যকরের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটিও। এখন আগের থেকে আম্পায়ারদের ভুলের সংখ্যা অনেক কমে গেছে বলে দাবি করেন এই কমিটির একজন সদস্য, ‘আমরা আম্পায়ারিংয়ের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে চাচ্ছি। আগের দিনগুলোতে হয়তো অনেক কিছু এড়িয়ে যাওয়া হতো, কিন্তু এখন আমরা অনেক বেশি কঠোর ও নীতিগত অবস্থানে হাঁটছি। আম্পায়ারদেরও এখন ভুলের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। কিন্তু ক্রিকেটাররা বেশিই প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলছেন। মূলত শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণেই শাস্তি পাচ্ছেন তারা।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত