ঘরের মাঠে 'বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফি ২০২৬ এশিয়া জোন-২-এর উদ্বোধনী ম্যাচে নেপালকে ৩৩–২০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দাপুটে শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালের এসএ গেমসে নেপালের কাছে হারের পুরোনো ক্ষতও মুছল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
রবিবারে পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে স্বাগতিক দল। প্রথম অর্ধে সাকিবা জান্নাত সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে খানিকটা ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। তবে একজন খেলোয়াড় কমে গেলেও দমে যায়নি স্বাগতিকরা; বরং সতীর্থদের উজ্জীবিত করে লড়াই চালিয়ে যায় তারা। স্প্যানিশ হেড কোচ আনা আলোনসো ও সহকারী কোচ ডালিয়ার কৌশল মেনে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ১৩–৯ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধারা আরও তীব্র করে বড় জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে তারা।
দলের এই দাপুটে জয়ে মূল কাণ্ডারি ছিলেন আলপনা আক্তার। একাই ৭টি দুর্দান্ত গোল করে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় (প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত হন তিনি। তাঁর পাশাপাশি আক্রমণে দারুণ নৈপুণ্য দেখান মিষ্টি খাতুন ও শ্যামলী মিং, যাদের হাত থেকে আসে ৬টি করে গোল। দলের অধিনায়ক ইসমেতারা নিশি ৫টি ও সায়মা জান্নাত সীমা ৪টি গোল করেন। এ ছাড়া মাসুদা আক্তার ২ গোল এবং পূর্ণিমা রানী, অনুরাধা পাহান ও তাসনিয়া রহমান আরশা করেন ১টি করে গোল।
ম্যাচসেরার পুরস্কার জয়ের পর পুরোনো আক্ষেপ ঘোচানোর তৃপ্তি প্রকাশ করে আলপনা আক্তার বলেন, ‘আসলে আমার অনেক ভালো লাগছে। ২০১৯-এ আমরা একবার নেপালের কাছে হেরেছিলাম, ওই ক্ষোভটা আমার মনের মধ্যে ছিল। মনে মনে ভেবেছিলাম, আজকে আমরা জিতব, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর রহমতে তা-ই হয়েছে, আমরা জিততে পেরেছি।’
সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতির চার দলের এই টুর্নামেন্টে এমন বড় ব্যবধানের জয় ফাইনালের পথে বাংলাদেশকে মানসিকভাবে অনেক দূর এগিয়ে রাখবে। সোমবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দল। ভারত ম্যাচেও জয়ের ধারা বজায় রেখে সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ আলপনা।
নতুন অধিনায়ককে অভিনন্দন জানালেন জ্যোতি