১০ মাসে ৯৫৭ কোটি টাকার পণ্য জব্দ বিজিবির

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সরাইল রিজিয়নের অধীন ১৩টি ব্যাটালিয়ন চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৯৫৭ কোটি ১৩ লাখ ১৪ হাজার ৩২৮ টাকা সমমূল্যের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে। এ সময়ে বিভিন্ন অভিযানে অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদকদ্রব্য এবং অবৈধভাবে উত্তোলন করা পাথর ও বালু উদ্ধার করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযানে আটক করা হয়েছে ৩৩৩ জনকে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসিবুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে সরাইল রিজিয়নের অধীন ১৩টি ব্যাটালিয়নের চলতি বছরের প্রায় ১০ মাসের অভিযান ও বিভিন্ন কার্যক্রমের সাফল্য তুলে ধরা হয়।

বিজিবি জানায়, সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার। কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও শ্রীমঙ্গল—এই চারটি সেক্টরের অধীনে ১৩টি ব্যাটালিয়ন সীমান্তের নিরাপত্তায় কাজ করছে। এসব ব্যাটালিয়নের ২১১টি বর্ডার আউটপোস্টের (বিওপি) মাধ্যমে সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে ১১টি পিস্তল, ৯টি ম্যাগাজিন, ৭টি এয়ারগান, ৫টি পাইপগান ও ৬২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ কেজি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৭৭ মিটার ডেটোনেটর তার জব্দ করা হয়েছে।

একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৮১৫টি ইয়াবা, ১৪ হাজার ৯৬৭ কেজি গাঁজা, ৬৩ হাজার ৫৭৫ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার এবং ১৬ হাজার ৮৮০ বোতল ফেনসিডিল ও ইস্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ৪ লাখ ৩২ হাজার ৫১০টি যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও ২১০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আটক ৩৩৩ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধেও অভিযান পরিচালনা করেছে বিজিবি। এসব অভিযানে ১৬ হাজার ৮০০ ঘনফুট পাথর ও ৮ হাজার ২০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে।

সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায়ও কাজ করছে বিজিবি। গত ১০ মাসে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী, চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় দুর্গম স্থানে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ছাড়া সীমান্ত এলাকার তরুণ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সিলেট সেক্টরের উদ্যোগে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি চোরাচালানবিরোধী সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসিবুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

তিনি সবাইকে গুজবে কান না দেওয়া এবং যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে নিকটস্থ বিজিবি টহল দল, ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত