বীর প্রতীক রফিকুলকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ৩ জনের সাজা

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বীর প্রতীক রফিকুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টার মামলায় তিন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আট আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মওদুদ আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- গজারিয়া উপজেলার মধ্য ভাটেরচর গ্রামের জিএম শহিদুল্লার দুই ছেলে জাহিদুল হাসান আকাশ (২২) ও হাছিবুল হাসান শান্ত (২০) এবং একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাইদুজ্জামান সজীব (২৪)।

রায়ে জাহিদুল হাসান আকাশকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সাইদুজ্জামান সজীবকে ১০ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে, হাছিবুল হাসান শান্তকে আট মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তার আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড হবে।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৭টার দিকে গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন মদিনা টিম্বারের সামনে বীর প্রতীক রফিকুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ধারাল অস্ত্র, লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন, ২৯ নভেম্বর, রফিকুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম ডালিম বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছিল।

তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ১১ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নূর হোসাইন। তিনি বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তিন আসামিকে সাজা দিয়েছেন এবং অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় আটজনকে খালাস দিয়েছেন। আদালতের এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় রফিকুল ইসলামের বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়াসহ মুন্সীগঞ্জ, টংগিবাড়ী, কুমিল্লার দাউদকান্দি ও হোমনা এবং ঢাকার মাতুয়াইলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করায় বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত