শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে মাঠপর্যায়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। তিনি বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ ২৪ ঘণ্টা সজাগ রয়েছে। উৎসবের বাকি দিনগুলোতেও পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার রাতে কুমিল্লা নগরীর ঐতিহাসিক নানুয়া দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি পূজার্থী ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
ডিআইজি জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের ছয়টি জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ তিনি নিজে পরিদর্শন করেছেন। কোথাও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বা উদ্বেগের কোনো বিষয় চোখে পড়েনি। মানুষ আনন্দ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপন করছেন।
নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রায় এক মাস আগে থেকেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম রেঞ্জজুড়ে কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা তৈরির কাজ শুরুর পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিমা পরিবহনের সময়ও পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।
উৎসবের বাকি দিনগুলোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরে ডিআইজি বলেন, পুলিশ সদস্যদের কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা রয়েছে। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ের কন্ট্রোল রুমগুলো কেন্দ্র থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কুমিল্লা জেলায় ৮৪৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদ্যাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২০৫টি মণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মণ্ডপ পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান ও পঙ্কজ বড়ুয়াসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।