ইতালির রাজপথে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, ধর্মঘটের ডাক

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, কম মজুরি ও আবাসন সংকটের প্রতিবাদে ইতালির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। শনিবারের এসব বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মিলান, তুরিন, বোলোনিয়া ও বার্গামোতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোথাও কাঁদানে গ্যাস, কোথাও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। খবর ডয়চে ভেলে। 

এদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। অন্যদিকে, জীবনযাত্রার ব্যয় ও কম মজুরির প্রতিবাদে আগামী ২০ নভেম্বর দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইতালির বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠনগুলোর একটি, ইতালিয়ান জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার (সিজিআইএল)। 

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বিক্ষোভের নামে সহিংসতার নিন্দা জানান এবং পুলিশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

ইতালির বার্তা সংস্থা আনসার (এএনএসএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিলানের কেন্দ্রীয় পিয়াজা দুওমো চত্বরে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা একদল তরুণ পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি ও বোতল নিক্ষেপ করেন। এ সময় তাঁরা সড়কে ব্যারিকেডও তৈরি করেন।

এ ঘটনায় প্রায় ৫০ জন তরুণকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের প্রায় অর্ধেকই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছে আনসা।

সংঘর্ষে মিলানে অন্তত চার পুলিশ সদস্য ও ২০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া তুরিন, বোলোনিয়া ও বার্গামোতেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। বোলোনিয়ায় পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে এবং চারজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ ঘটনায় সাতজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

মেলোনি অভিযোগ করেন, কিছু অপরাধী বিক্ষোভকে সংঘাত সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করেছে।

তিনি বলেন, 'বিক্ষোভ করা অধিকার, কিন্তু আমাদের শহরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া নয়।'  

মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালাও সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের অসন্তোষের পেছনে থাকা কারণগুলোও স্বীকার করেছেন তিনি।

সালা বলেন, 'বিক্ষোভের কারণগুলো বোধগম্য ছিল। কিন্তু পুলিশের ওপর সহিংসতা এবং শহরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কোনোভাবেই ন্যায্যতা পেতে পারে না।'

ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকৃত মজুরি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা এবং বড় শহরগুলোতে সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট জনমনে অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলেছে।

জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে পরিবারগুলোর ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে সাধ্যের মধ্যে বাড়ি খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে অনেকের জন্য। এসব সমস্যার প্রতিবাদেই রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা।

রাজধানী রোমেও হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। সিজিআইএলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশ থেকে সংগঠনটির নেতা মাউরিজিও লানদিনি আগামী ২০ নভেম্বর দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেন।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত