আল্লাহর প্রতি আস্থা না থাকলে যা হয়

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম

মহান আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল তথা সম্পূর্ণ ভরসা রাখা মুমিনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুমিন মহান আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে। দুঃসময়ে একমাত্র তাওয়াক্কুলই পারে মানুষকে শক্তি ও সাহস জোগাতে এবং উদ্বুদ্ধ করে ধৈর্য ধারণ করতে।

তাওয়াক্কুল মানুষকে জাগতিক পেরেশানি ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করে। তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে বান্দা তার জীবনের সবকিছু আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেয়। আল্লাহর সিদ্ধান্তে ভরসা রাখে। ফলে কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা বা অতিরিক্ত চিন্তা বান্দাকে কাবু করতে পারে না।

তাওয়াক্কুলকারীদের জন্য মহান আল্লাহই যথেষ্ট হয়ে যান। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে কেউ আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক ৩) যখন কোনো ব্যক্তির জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হয়ে যান, তখন আর তার ভয়ের কিছু থাকে না। তার সবকিছুর দায়িত্ব আল্লাহ নিজ জিম্মায় নিয়ে নেন।

বর্তমানে দেখা যায়, মানুষ বিপদাপদে দিশেহারা হয়ে পড়ে। অধৈর্য হয়ে পড়ে। কিংবা কোনো কাজের ফলাফল মনমতো না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। এর পেছনে রয়েছে তাওয়াক্কুলের অভাব। আল্লাহর প্রতি আস্থা না থাকায় মনে শান্তি পাওয়া যায় না। এটা কেন হলো, এভাবে না হলেও পারত, আল্লাহ এমনটা কেন করলেন, এসব প্রশ্ন মনে উদিত হয়ে মনের প্রশান্তি নষ্ট করে দেয়। অবশ্যই এসব মানসিকতার পরবির্তন করতে হবে।

এখানে একটি বিষয় না বললেই নয়। অনেকেই তাওয়াক্কুলের নামে নিজে কোনো চেষ্টা না করেই সবকিছু আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেন, যা কখনোই উচিত নয়। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, একজন লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি আমার উট বেঁধে রেখে আল্লাহর ওপর ভরসা করব, নাকি বাঁধন খুলে রেখে আল্লাহর ওপর ভরসা করব? তিনি বললেন, তুমি সেটা বেঁধে রেখে আল্লাহর ওপর ভরসা করবে। (তিরমিজি ২৫১৭)

এর দ্বারা আমরা বুঝতে পারি, তাওয়াক্কুল মানে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা নয়। যেকোনো কাজের জন্য প্রথমে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। এরপর ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে হবে। যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে তা যথাযথভাবে করে যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই তা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়াই সঠিক তাওয়াক্কুল।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত