‘বিশৃঙ্খলা ও ষড়যন্ত্রকারীদের’ রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘সমাজের কিছু রাজনৈতিক দল প্রতিনিয়ত নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে।’

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
‘স্বৈরাচার ও একটি নির্দিষ্ট দল দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা’ চালাচ্ছে বলে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
 
তিনি ভাষায় বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কিছু দল নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। বর্তমান সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে এই ধরনের অপতৎপরতা দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।
 
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘সমাজের কিছু রাজনৈতিক দল প্রতিনিয়ত নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে। সাধারণ মানুষকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে, এমন কর্মসূচি যারা প্রদান করে, তারা কখনোই এ দেশের আপামর জনগণের প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না। দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে, এ বিষয়টি একটি মহল কিছুতেই সহ্য করতে পারছে না। তারা কোনোভাবেই চায় না বর্তমান সরকারের গৃহীত জনকল্যাণমূলক ও জনবান্ধব কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হোক।’

নির্বাচনের পূর্বের বিভিন্ন অপকর্মের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে নির্বাচনের আগে যারা দলীয় টিকিট বা মনোনয়ন বিক্রির বাণিজ্য করেছিল এবং বর্তমানে সীমান্তের ওপারে পালিয়ে থাকা পরাজিত শক্তি—সবাই মিলে দেশে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অসৎ উদ্দেশ্যে একজোট হয়েছে।’ জনগণের কষ্টার্জিত উন্নয়ন ও অগ্রগতি যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য দেশের সকল স্তরের জনসাধারণকে সবসময় ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই বাংলাদেশকে একটি ভিন্ন ও ধ্বংসাত্মক পথে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করেছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যেমন তারা দেশের সাথে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি করেছিল, ঠিক একইভাবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানেও তারা একই কায়দায় ধোঁকা দিয়েছে। অনেকে মুখে মুখে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করার কথা বড় গলায় প্রচার করলেও অন্তরে তারা কখনোই তা লালন করে না।’

তিনি বলেন, বিএনপি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান—উভয় চেতনাকেই সমানভাবে ধারণ ও লালন করে। যারা মূলত দেশ গড়ার উদার নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা এ দেশকেও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে না। আমাদের দেশের ভাগ্য বিদেশ থেকে অন্য কেউ এসে কৃত্রিমভাবে গড়ে দিয়ে যাবে না, বরং নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরকেই পরিশ্রম করে গড়ে তুলতে হবে।

আগামী পাঁচ বছর দেশের সেবা করতে জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত জাতীয় নির্বাচনে যেভাবে দেশের জনগণ বিএনপি সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছিল, আগামী দিনগুলোতেও দেশের স্বার্থে ঠিক একইভাবে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারা যেকোনো মূল্যে অব্যাহত রাখতে দেশবাসীকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশের প্রায় ৩৮ হাজার আখচাষিকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। কৃষক ও কৃষি বাঁচলেই কেবল দেশ বাঁচবে, এই মূল মন্ত্রকে সামনে রেখে সরকার কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং কৃষকদের জীবনমান পরিবর্তনে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চলতি বছরেই দেশের ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে মোট ৪০ লাখ কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া কৃষি ও সেচ খাতের উন্নয়নে গত আট মাসে সারা দেশে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার বন্ধ খাল খনন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার প্রসারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সারা দেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোর বর্তমান শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০টিতে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

শিল্প খাতের উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে তিনি ঘোষণা দেন যে, আগামী বছরের মধ্যে দেশের বন্ধ থাকা ৪৬টি কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে। এর মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কৃষি ও শিল্পের সুষম বিকাশ এবং দেশের অর্থনীতিকে এক অনন্য উচ্চতায় এগিয়ে নেওয়া। এসব জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে তিনি সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
 
দেশের চলমান উন্নয়ন ও জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো ধরনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে কঠোর ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে সরকার সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে এবং এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে জনগণের শক্তিশালী সমর্থন অত্যন্ত জরুরি।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত