চিনি কেন খাবেন না

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪০ এএম

চিনি, সাদা বা বাদামি হোক দুটোই ক্ষতিকর। যদিও চিনি খাবারের স্বাদ বাড়ালেও অতিরিক্ত চিনি শরীরের জন্য ভালো নয়। নিয়মিত বেশি চিনি খেলে ওজন বৃদ্ধি, দাঁতের ক্ষয়, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। মিষ্টি খাবার ও পানীয়ের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সুস্থ থাকতে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। চিনির ক্ষতিকর প্রভাব মূলত অতিরিক্ত গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

যে চিনি ক্ষতি করে

আর্টিফিশিয়াল সুগার : অনেকেই আছেন সরাসরি চিনি না খেয়ে আর্টিফিশিয়াল সুইটেনার কিনে চায়ের সঙ্গে মিলিয়ে খান। তারা ভাবেন চিনি তো খাচ্ছেন না কী ক্ষতি হবে। অথচ আর্টিফিশিয়াল সুগার ব্রেইন-এর যে সেন্সর দেহে চিনি ঢুকেছে তা অকেজো করে দেয়। তাই ব্রেইন যে সিগন্যালটা দিত, যে যথেষ্ট সুগার এসেছে, এখন খাওয়া বন্ধ করো, সেটা আর আসে না। তখন কিছুক্ষণ পরপর মিষ্টি কিছু খেতে ইচ্ছা করে। ক্রেভিং-টা দূর হয় না। দেখা যায় ডায়াবেটিস ধরা পড়ার আগে যে মানুষ মাসে একবার মিষ্টি খেত না সে রোগে পড়ার পর রোজই এখন মিষ্টি খাচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন একনাগাড়ে আর্টিফিশিয়াল সুগার রোজ খেলে শরীরের ফ্যাট মেটাবোলিজম-এর সমস্যা হয়। ফলে যতই কম খাবেন, কোনোভাবেই ওজন কমাতে পারবেন না।

এনার্জি ড্রিংকস : এনার্জি ড্রিংকস রং মেশানো চিনি আর ক্যাফেইন-ওয়ালা পানি ছাড়া আর কিছুই না। এনার্জি ড্রিংকস ২৫০ মিলি বোতলে ৩০ গ্রামের বেশি চিনি থাকে। নিয়মিত খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি আরও অনেক বেড়ে যায়।

কোল্ড ড্রিংকস : কোল্ড ড্রিংকসের ক্ষতি কম-বেশি সবাই জানে। এতে এক্সেস ক্যালোরি ইনটেক হয়। দরকারের চেয়ে ১০-১২ গুণ বেশি চিনি ইনটেক হয়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হয়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, হার্টের সমস্যা, স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। কয়েক ধরনের ক্যানসার সেল বৃদ্ধি করে।

কেক, বিস্কুট ও পেস্ট্রি : কেক, বিস্কুট, পেস্ট্রি, ডোনাট ও ক্রিমযুক্ত বেকারি খাবার অনেকেরই পছন্দের। তবে এসব খাবারে অতিরিক্ত চিনি, পরিশোধিত ময়দা এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকতে পারে। যা রক্তে শর্করা বাড়ায়। ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করে। এসব খাবার নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি গ্রহণ করে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে ওজন বাড়তে পারে। অতিরিক্ত ক্যালরি ও চিনি গ্রহণ, বিশেষ করে চিনি-মিষ্টি খাবার ও পানীয়ের নিয়মিত অভ্যাস, লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে শুধু কেক বা বিস্কুট খেলেই ফ্যাটি লিভার হবে, এমন নয়। এসব খাবারের চিনি মুখের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে অ্যাসিড তৈরি করতে সাহায্য করে। এতে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে ক্যাভিটি বা দাঁতে গর্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বারবার মিষ্টি খেলে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত