বাঙালি নারীর পছন্দের অলংকারগুলোর একটি কানপাশা। সাধারণ দুলের মতো শুধু কানের লতিতে ঝুলে থাকে না; বরং কানের বাইরের অংশজুড়ে ছড়িয়ে থাকে। কানপাশা মূলত গোলাকার ধরনের হয়। নকশার ধরন অনুযায়ী কখনো কানের প্রায় পুরো অংশ ঢেকে রাখে, কখনো কানের ওপরের দিক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। বিয়ে, পূজা ও বিভিন্ন উৎসবে ঐতিহ্যবাহী সাজের সঙ্গে কানপাশা বেশ মানানসই।
বাংলার অলংকারের ইতিহাসে কানপাশার প্রচলন শুরু হয় মূলত মোগল আমলে। সে সময়ের অলংকারশিল্পে নকশা, কারুকাজ ও ধাতুর ব্যবহারে নানা পরিবর্তন এসেছিল। শুরুতে সোনার হলেও পরবর্তী সময়ে রুপা, তামা ও বিভিন্ন ধাতুর তৈরি কানপাশা জনপ্রিয়তা পায়। নকশায় রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। ফুল-লতাপাতা, জ্যামিতিক নকশা, পাথর বসানো, মুক্তার কাজ এবং সূক্ষ্ম কারুকাজের কানপাশা দেখা যায়। কোনোটি ভারী ও জমকালো, কোনোটি আবার হালকা। পোশাক ও সাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কানপাশা বেছে নিতে হয়। শাড়ি, বিশেষ করে জামদানি, কাতান বা বেনারসির শাড়ির সঙ্গে ভারী কানপাশা যেমন মানায়, তেমনি সাদামাটা পোশাকেও হালকা নকশার কানপাশা সাজে ভিন্নতা আনে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে কানপাশা নারীর প্রিয় অলংকার।