মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেই যাবেন ইশরাক

সারাদিন নিভৃতে, সন্ধ্যায় বের হলেন পূজামন্ডপ পরিদর্শনে

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ এএম

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর দিন একান্তে নিভৃতে সময় কাটালেন সদ্য পদত্যাগী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার সারাদিন তিনি রাজধানীর গোপীবাগে তার নিজ বাসভবনে ছিলেন। স্ত্রী-পরিবারসহ সবাইকে নিয়ে একান্তে সময় কাটিয়েছেন। সন্ধ্যায় নিজ নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীরা তার বাসায় গেলে তাদের সঙ্গে আলাপ করে সময় কাটিয়েছেন। সন্ধ্যায় নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শনে বের হন। 

ইশরাক হোসেন গত রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগের পর এখন সময় বেশি পাব। এ সময়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাব। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে মাদক ব্যবসা নির্মূল করব। ইতিমধ্যে মাদকের ৭টি স্পট চিহ্নিত করেছি।’ 

এর আগে গতকাল দুপুরে গোপীবাগের বাসভবনে গেলে ইশরাকের ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুর রহমান আরিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্যার বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। এখন তাকে পাওয়া যাবে না।’    

ইশরাক আরও বলেন, পদত্যাগের পর এখন মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাব। নিজ এলাকা দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হবে। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। আমার নির্বাচনী এলাকা মাদকমুক্ত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।  

পদত্যাগের পর পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে ইশরাক বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মাঠে সক্রিয় থাকব। মাদকের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে যুক্ত থাকব। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জেলা সফরের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো রাজনৈতিক বা স্থানীয় নির্বাচনে দলের নির্দেশনা অনুযায়ী অংশ নিতে প্রস্তুত থাকব।

এদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ইশরাকের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গৃহীত হয়েছে।

গতকাল চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে ইশরাকের পদত্যাগের বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মাদক সমাজদেহকে শেষ করে দিচ্ছে। তার যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। সেখানে পুলিশ ও ফোর্স ছিল। তবে তার হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো।’ তিনি বলেন, ‘তার কাজকে নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই। তবে একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র হাতে বহন করলে কিংবা কাউকে অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করলে, তার উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা খারাপ উদ্দেশ্যে এটিকে দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’

উল্লেখ্য, গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণায় পলিথিনের ছাউনির ঘরে গত শনিবার মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তার সহযোগীরা। ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ইশরাক হোসেন অস্ত্র হাতে মাদকাসক্ত ও বিক্রেতাদের তাড়া করছেন। পরে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে তার পক্ষ দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। ব্যাখায় তিনি বলেন, শনিবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে ইশরাক হোসেনের নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণ করতে পারে এমন আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি ও আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি।

ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর রবিবার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। সোমবার সংসদ সম্মেলন করে পদত্যাগের কথা জানান ইশরাক হোসেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত